আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল এবং বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। লন্ডনে বিবিসি’র জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘নিউজ আওয়ার’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি নির্বাচনের স্বচ্ছতা এবং বিরোধী দলগুলোর অবস্থান নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলেন।
জাতীয় পার্টির ফলাফল নিয়ে বিস্ময়
সাক্ষাৎকারে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম এবং দীর্ঘদিনের পুরনো রাজনৈতিক দল জাতীয় পার্টি একটি আসনও পায়নি, এটি সম্পূর্ণ ‘অবিশ্বাস্য’। তিনি উল্লেখ করেন, যে দলটির ৫ থেকে ১০ শতাংশ স্থায়ী ভোট ব্যাংক রয়েছে, তাদের এমন ফলাফল স্বাভাবিক নয়।
জামায়াতের আসন সংখ্যা ও নির্বাচনের প্রতিযোগিতা
নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ফলাফল নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জয়। তিনি বলেন, “জামায়াত যেখানে ঐতিহাসিকভাবে ৫ থেকে ১০টির বেশি আসন পায় না, সেখানে তারা এবার ৮০টির কাছাকাছি আসন পেয়েছে। এটি পরিষ্কার করে যে, এই নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলক ছিল না।” তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, আওয়ামী লীগের মতো বড় দলকে নিষিদ্ধ করে এবং প্রগতিশীল দলগুলোকে সমাবেশ করতে না দিয়ে একতরফা পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে।
বিএনপির সাথে সংলাপে আগ্রহ
আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বিএনপির সাথে আলোচনায় বসবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে জয় ইতিবাচক সাড়া দেন। তিনি বলেন, “আমরা সবার সাথে কথা বলতে প্রস্তুত। বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি অনেকটা যুক্তরাজ্যের টরি ও লেবার পার্টির মতো। এই দুই প্রধান দলকে ছাড়া বাংলাদেশের রাজনীতি কল্পনা করা কঠিন।”
আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ ও ভোট ব্যাংক
নির্বাচন পরবর্তী বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘মধুচন্দ্রিমা’ হিসেবে উল্লেখ করে জয় বলেন, “মানুষ হয়তো ভোট দিতে পেরে আপাতত খুশি, কিন্তু এই সময়টা পার হতে দিন, তারপর আসল চিত্র দেখা যাবে। আমাদের দলের এখনো ৪০ শতাংশ ভোট রয়েছে। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে স্থায়িত্ব আনা সম্ভব নয়।”
এক নজরে সাক্ষাৎকারের মূল পয়েন্টগুলো:
-
জাতীয় পার্টি: শূন্য আসন পাওয়াকে রহস্যজনক ও অবিশ্বাস্য বলে দাবি।
-
নির্বাচন: প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশের অভাব ও বিরোধী কণ্ঠ দমনের অভিযোগ।
-
ভোট ব্যাংক: আওয়ামী লীগের ৪০% ও জাতীয় পার্টির ১০% ভোটারকে অবজ্ঞা না করার আহ্বান।
-
সংলাপ: রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রয়োজনে বিএনপির সাথে আলোচনার সুযোগ উন্মুক্ত রাখা।