২১শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৭ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
২রা শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের শঙ্কা: রানওয়ে উড়িয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিল ডেনমার্ক

admin
প্রকাশিত ২০ মার্চ, শুক্রবার, ২০২৬ ১৬:৩৯:৩৪
ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের শঙ্কা: রানওয়ে উড়িয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিল ডেনমার্ক

Manual2 Ad Code

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় রণপ্রস্তুতি নিয়েছিল ডেনমার্ক। এমনকি দ্বীপটির কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরের রানওয়ে উড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনাও করেছিল ডেনিশ সেনারা। ডেনমার্কের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ডিআর-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

‘অপারেশন আর্কটিক এন্ডিউরেন্স’ ও গোপন প্রস্তুতি

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত জানুয়ারিতে ডেনিশ বিশেষ বাহিনী এবং ফ্রান্স ও নরওয়ের যৌথ সামরিক দল গ্রিনল্যান্ডে মোতায়েন করা হয়েছিল। প্রকাশ্যে একে ‘যৌথ সামরিক মহড়া’ বলা হলেও এর প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল মার্কিন আগ্রাসন প্রতিহত করা। ডেনিশ সামরিক সূত্র জানায়:

  • রানওয়ে ধ্বংসের পরিকল্পনা: মার্কিন সামরিক বিমান যাতে অবতরণ করতে না পারে, সেজন্য রাজধানী নুক এবং কাংগারলুসুয়াক বিমানবন্দরের রানওয়ে উড়িয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি ছিল।

  • রক্তের মজুত: সম্ভাব্য সংঘর্ষে আহতদের চিকিৎসার জন্য বিশেষ মেডিকেল টিম ও পর্যাপ্ত রক্তের মজুত সাথে নেওয়া হয়েছিল।

    Manual4 Ad Code

  • প্রতিরোধের কৌশল: ডেনিশ কর্মকর্তাদের মতে, লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই দখলের ‘ব্যয়’ বাড়িয়ে দেওয়া এবং তাদের শত্রুতামূলক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করা।

ভেনেজুয়েলা অভিযান ও ট্রাম্পের হুমকি

৩ জানুয়ারি মার্কিন বিশেষ বাহিনী ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর পরিস্থিতি নাটকীয় মোড় নেয়। এর পরদিনই ট্রাম্প দাবি করেন:

Manual2 Ad Code

“জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে আমাদের গ্রিনল্যান্ড দরকার। এটি অত্যন্ত কৌশলগত এলাকা এবং সেখানে রুশ ও চীনা জাহাজ ছড়িয়ে আছে।”

Manual3 Ad Code

এই বক্তব্যের পর ডেনিশ ও ইউরোপীয় মিত্ররা গ্রিনল্যান্ড রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা গ্রহণ করে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁও এই প্রতিরোধে স্থল, আকাশ ও নৌ শক্তি দিয়ে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

ন্যাটোর অন্দরে ফাটল

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক উভয়ই ন্যাটোর সদস্য হওয়া সত্ত্বেও গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ওয়াশিংটনের সাথে ইউরোপীয় মিত্রদের গভীর বিভাজন তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে বারবার দ্বীপটি কেনার বা নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, যা ডেনমার্ক সরকার বারবার প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

বর্তমান পরিস্থিতি

গত ২১ জানুয়ারি দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে ট্রাম্প কিছুটা নরম সুর প্রকাশ করে বলেন, তিনি বলপ্রয়োগ করতে চান না বরং ‘আলোচনার’ মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছাতে চান। তবে ডেনমার্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বিবিসির কাছে এই সামরিক প্রস্তুতির বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।


বিশ্লেষণ: এই ঘটনাটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ন্যাটোর দুই মিত্র দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় আস্থার সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত অবস্থান এবং খনিজ সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণের লড়াই ভবিষ্যতে আরও জটিল রূপ নিতে পারে।

Manual8 Ad Code