নিজস্ব প্রতিবেদক, মৌলভীবাজার রাশিয়ায় উচ্চশিক্ষা ও নাগরিকত্বের স্বপ্নে বিভোর মৌলভীবাজারের মুহিবুর রহমান (২৭) এখন লাশ হয়ে ফিরছেন। গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) ইউক্রেনীয় বাহিনীর এক ড্রোন হামলায় রাশিয়ায় তার মৃত্যু হয়। সোমবার (২০ এপ্রিল) তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পরিবার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি।
নিহত মুহিবুর মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আমতৈল ইউনিয়নের সম্পদপুর গ্রামের মসুদ মিয়ার ছেলে। তিনি পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন।
যেভাবে মৃত্যুর খবর আসে
মুহিবুরের ছোট ভাই হাবিবুর রহমান জানান, গত ১৭ এপ্রিল একটি বাংকারে অবস্থানকালে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় সেটি বিধ্বস্ত হলে ঘটনাস্থলেই মুহিবুর নিহত হন। রাশিয়ান সেনাদের খাবার সরবরাহকারী মেহেদি হাসান নামে এক সহকর্মী ফোনে এই দুঃসংবাদটি পরিবারের কাছে পৌঁছান।
উচ্চশিক্ষার আড়ালে যুদ্ধের ময়দান
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মুহিবুর কয়েক বছর আগে উচ্চশিক্ষার জন্য রাশিয়ায় পাড়ি জমান। সেখানে আড়াই বছর পড়াশোনা করার পর দেশে ফিরে বিয়ে করেন এবং পুনরায় রাশিয়ায় চলে যান।
হাবিবুর রহমান বলেন, “ভাই আমাদের বলেছিলেন তিনি রুশ সেনাবাহিনীর জন্য খাবার রান্নার কাজ করেন। কিন্তু এখন বুঝতে পারছি, বছর দুয়েক আগে দালালেরা তাকে মোটা অঙ্কের বেতন ও যুদ্ধ শেষে রাশিয়ার নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে যুদ্ধে পাঠিয়েছিল। পরিবারের অজান্তেই হয়তো তিনি এই ঝুঁকিপূর্ণ কাজে জড়িয়ে পড়েন।”
পরিবারের আর্তনাদ ও দাবি
ছেলের মৃত্যুর খবরে মা-বাবা ও স্বজনদের কান্নায় সম্পদপুর গ্রামের আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। পরিবারের একমাত্র অবলম্বনকে হারিয়ে তারা এখন দিশেহারা। শোকাতুর পরিবারটির এখন একটাই দাবি— মুহিবুরের মরদেহ যেন রাষ্ট্রীয় সহায়তায় দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
জনপ্রতিনিধির বক্তব্য
আমতৈল ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. ইকবাল আহমদ বলেন, “আমরা পরিবারের মাধ্যমে জানতে পেরেছি মুহিবুর ড্রোন হামলায় মারা গেছেন। তিনি রাশিয়ার হয়ে সামরিক ট্রেনিং নিয়ে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন বলে আমরা খবর পেয়েছি।”
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে দালালের খপ্পরে পড়ে রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে অংশ নিতে গিয়ে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন, যা নিয়ে প্রবাসীদের মাঝে উদ্বেগ বাড়ছে।