৭ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

দেশবন্ধু এম ইলিয়াস আলী ও সাইফুল ইসলাম হিরু : এক যুগ পেরিয়েও সন্ধান নেই, সমগ্র সিলেট

admin
প্রকাশিত ০৬ অক্টোবর, মঙ্গলবার, ২০২৬ ১৪:২২:৫৮
দেশবন্ধু এম ইলিয়াস আলী ও সাইফুল ইসলাম হিরু : এক যুগ পেরিয়েও সন্ধান নেই, সমগ্র সিলেট

বিশ্বনাথ-বালাগঞ্জ – ওসমানীনগর ও সমগ্র কুমিল্লা লাকসামের মানুষের প্রশ্ন—কবে ফিরবেন দুই সাবেক এমপি ?

কবি এস.পি.সেবু সিলেট থেকে : বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া রাজনৈতিক নেতাদের কয়েকটি ঘটনা আজও স্বজন, সহকর্মী ও সাধারণ মানুষের মনে গভীর প্রশ্নের জন্ম দিয়ে চলেছে। সময়ের হিসাবে এক যুগেরও বেশি পেরিয়ে গেলেও বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় মহাননেতা দেশবন্ধু এম ইলিয়াস আলী এবং কুমিল্লার লাকসাম উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম হিরু—এই দুই প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার কোনো নিশ্চিত সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি।

একজন সিলেটের বিশ্বনাথ-বালাগঞ্জ -ওসমানীনগরের মানুষের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পরিচিত মুখ, অন্যজন কুমিল্লার লাকসামের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় ছিলেন। দুজনই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং দুজনের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাই দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় রাজনীতিতে আলোচিত।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরে আসার পর দেশের বিভিন্ন সময়ে নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে নতুন করে তদন্ত ও বিচারের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে ইলিয়াস আলীর নিখোঁজের ঘটনা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমে এসেছে। কিন্তু আজও প্রশ্ন রয়ে গেছে—ইলিয়াস আলী ও সাইফুল ইসলাম হিরু কোথায়? তাঁদের স্বজনেরা কবে নিশ্চিত উত্তর পাবেন?

সিলেট-২-এর রাজনীতিতে ইলিয়াস আলীর উত্থান

এম ইলিয়াস আলী ছিলেন সিলেটের রাজনীতিতে বিএনপির অন্যতম পরিচিত নেতা।

ছাত্ররাজনীতির মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন এবং সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।

সিলেট-২ আসনের রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব ছিল উল্লেখযোগ্য। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তিনি প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একই বছর জুনের নির্বাচনে তিনি মাত্র একশো ভোটের কারণে জয়ী হতে পারেননি। পরে ২০০১ সালের ১ অক্টোবরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে আবারও সিলেট-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিশ্বনাথ ওসমানীনগর এলাকার মানুষের কাছে তিনি পরিচিত রাজনৈতিক নেতা হিসেবে অবস্থান তৈরি করেন।

২০০৮ সালের কারচুপির ইলেকশনে কুখ্যাত ওয়ান ইলেভেনের শয়তানরা তাঁর বিজয়কে ছিনিয়ে নেয়-!

এরপরও সিলেটের বিএনপির রাজনীতিতে তাঁর সাংগঠনিক ভূমিকা অব্যাহত ছিল।

১৭ এপ্রিল ২০১২: যে রাত বদলে দেয় একটি পরিবারের জীবন

২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল রাতে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে এম ইলিয়াস আলী এবং তাঁর গাড়িচালক আনসার আলী নিখোঁজ হন। পরদিন তাঁর ব্যবহৃত গাড়ি রাজধানীর মহাখালী এলাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়ার খবর প্রকাশিত হয়।

(উলেখ্য যে ইলিয়াস নিঁখোজের কিছু দিন আগেই সিলেটের বিএনপি ছাত্রদলের জুনেদ -দিনারকে গুমম করে টায়ালিং দেয়া হয় সিক্রেট এজেন্টদের)

এরপর থেকেই শুরু হয় এক দীর্ঘ অনুসন্ধান। পরিবার, দলীয় নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন মহল থেকে তাঁর সন্ধানের দাবি ওঠে।

ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা এমপি তাঁর সন্ধান চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন। নিখোঁজের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকেও তাঁকে খুঁজে বের করার উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছিল।

কিন্তু বছর পেরিয়ে বছর—ইলিয়াস আলীর কোনো নিশ্চিত সন্ধান মেলেনি।

১৪ বছরেও অপেক্ষা শেষ হয়নি

২০২৬ সালের ১৭ এপ্রিল ইলিয়াস আলী নিখোঁজের ১৪ বছর পূর্ণ হয়। অর্থাৎ ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তাঁর নিখোঁজের পর কেটে গেছে প্রায় ১৪ বছর ৬ মাস।

সিলেটের মানুষের কাছে ইলিয়াস আলী শুধু একজন সাবেক এমপি নন; তিনি একটি রাজনৈতিক সময়ের প্রতিনিধিও। তাঁর অনুপস্থিতি সিলেট-২ আসনের রাজনীতিতে একটি স্থায়ী শূন্যতার প্রতীক হয়ে আছে।

এমনকি নিখোঁজ থাকার পরও বিএনপির বিভিন্ন সাংগঠনিক কমিটিতে তাঁর নাম রাখা হয়েছে। এতে দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে একটি বার্তাই স্পষ্ট হয়েছে—দল তাঁকে রাজনৈতিকভাবে বিস্মৃত করেনি।

স্ত্রী লুনার সংসদ সদস্য হওয়া: নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়

ইলিয়াস আলীর নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর পরিবারও সিলেটের রাজনৈতিক পরিসরে সক্রিয় থেকেছে। তাঁর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা দীর্ঘদিন ধরে স্বামীর সন্ধানের দাবিতে সোচ্চার ছিলেন।

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে তিনি নির্বাচিত হন।

বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর নিয়ে গঠিত সিলেট-২ আসনের মানুষের কাছে এই বিজয় তাই শুধু একটি নির্বাচনী ফলাফল নয়; ইলিয়াস আলীর দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়ের সঙ্গেও এটি নতুনভাবে যুক্ত হয়েছে।

আজ সংসদে তাঁর স্ত্রী একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই জনমনে প্রশ্ন উঠছে—রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এখন কি ইলিয়াস আলীর সন্ধানের বিষয়টি আরও জোরালোভাবে এগিয়ে নেওয়া হবে?

ট্রাইব্যুনালে নতুন করে ইলিয়াস আলী প্রসঙ্গ

ইলিয়াস আলীর নিখোঁজের ঘটনা ২০২৬ সালে নতুন করে গুরুত্বপূর্ণ মোড় নেয়।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত কার্যক্রমে তাঁর নিখোঁজের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ২০২৬ সালের এপ্রিলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর জানিয়েছিলেন, সাবেক ডিজিএফআই প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ তদন্তকারীদের কাছে ইলিয়াস আলীর নিখোঁজের বিষয়ে নিজের এবং অন্যদের ভূমিকা সম্পর্কে তথ্য দিচ্ছেন। একই সঙ্গে তদন্তকারীরা কল ডিটেইল রেকর্ডসহ বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেছেন বলে জানানো হয়।

এরপর আগস্টে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ইলিয়াস আলীর নিখোঁজের মামলায় বিমান বাহিনীর উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

ফলে ১৪ বছরের পুরোনো এই ঘটনায় প্রথমবারের মতো বিচারিক প্রক্রিয়ার অগ্রগতি দেখছেন ইলিয়াস আলীর স্বজন ও অনুসারীরা।

তবে তদন্তাধীন বিষয় হওয়ায় আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত দায় আরোপ করা আইনগতভাবে সমীচীন নয়।

(লাকসামের আরেক অপেক্ষা: সাইফুল ইসলাম হিরু)

ইলিয়াস আলীর ঘটনার প্রায় দেড় বছর পর আরেক বিএনপি নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম হিরু নিখোঁজ হন।

সাইফুল ইসলাম হিরু ছিলেন লাকসাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি এবং সাবেক সংসদ সদস্য।

২০১৩ সালের ২৭ নভেম্বর রাতে লাকসাম-কুমিল্লা সড়কের হরিশ্চর-আলীশ্বর এলাকায় তিনি এবং লাকসাম পৌর বিএনপির নেতা হুমায়ূন কবির পারভেজ নিখোঁজ হন।

পরিবার ও স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই রাতে তাঁরা একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে লাকসাম থেকে কুমিল্লার দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে তাঁদের গাড়ি থামানোর পর তাঁদের আর সন্ধান পাওয়া যায়নি—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে করে আসছে তাঁদের পরিবার।

পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ওই রাতের ঘটনাকে ঘিরে র‌্যাব-পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের প্রসঙ্গও এসেছে। তবে এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সত্য নির্ধারণের জন্য পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন।

হিরু-হুমায়ূনের পরিবারের অপেক্ষা

২০১৩ সালের ২৭ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের অক্টোবর—প্রায় ১৩ বছর পেরিয়ে গেছে।

কিন্তু সাইফুল ইসলাম হিরু ও হুমায়ূন কবির পারভেজের পরিবার এখনো নিশ্চিতভাবে জানে না তাঁদের প্রিয়জনদের অবস্থান কী।

২০১৪ সালের এপ্রিলেই তাঁদের সন্ধানের দাবিতে লাকসামে প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালন করা হয়। একই সময়ে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচির খবরও প্রকাশিত হয়েছিল।

স্বজনদের জন্য সময়ের এই দীর্ঘ ব্যবধান কোনোভাবেই অপেক্ষার অবসান ঘটায়নি।

বরং প্রতিটি বছর তাঁদের মনে একই প্রশ্ন আরও গভীর করেছে—

“তাঁরা কোথায়?”

বিএনপি সরকারে, তবু দুই সাবেক এমপির সন্ধান নেই

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি বড় বিজয় অর্জন করে। এরপর ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।

এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনদের প্রত্যাশাও বেড়েছে।

বিশেষ করে বিএনপির দুই সাবেক সংসদ সদস্য—এম ইলিয়াস আলী ও সাইফুল ইসলাম হিরু—এর সন্ধান এখন দলটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক ও রাজনৈতিক প্রশ্ন।

ইলিয়াস আলীর ক্ষেত্রে তদন্ত ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অগ্রসর হয়েছে। কিন্তু হিরুর বিষয়ে একই ধরনের দৃশ্যমান অগ্রগতি কতটা হয়েছে—সেটিও জনমনে প্রশ্নের বিষয়।

সরকারের কাছে স্বজনদের প্রত্যাশা কী?

বর্তমান সরকারের কাছে স্বজন ও দলীয় নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা কয়েকটি বিষয়ে কেন্দ্রীভূত হতে পারে।

প্রথমত, নিখোঁজ দুই সাবেক সংসদ সদস্যের ঘটনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অনুসন্ধান করা।

দ্বিতীয়ত, অতীতের তদন্ত, মামলা, জিডি, সাক্ষ্য, নথিপত্র এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর রেকর্ড পুনর্মূল্যায়ন করা।

তৃতীয়ত, যেসব ঘটনায় নতুন তথ্য বা সাক্ষ্য পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলো নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা।

চতুর্থত, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে আদালতে তা উপস্থাপন করা এবং আদালতের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা।

পঞ্চমত, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানকে অগ্রাধিকার দেওয়া।

কারণ স্বজনদের কাছে বিচার মানে শুধু আদালতের একটি রায় নয়; প্রিয় মানুষটির অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়াও ন্যায়বিচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

(অখন্ড সিলেটবাসী মানুষের প্রশ্ন : ইলিয়াস আলীর নির্বাচনী এলাকা বিশ্বনাথ ও অখন্ড বালাগঞ্জ- ওসমানীনগর)

এই অঞ্চলের রাজনীতিতে তাঁর দীর্ঘ উপস্থিতির কারণে তাঁর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা স্থানীয় মানুষের আবেগের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে।

একসময় যে মানুষটি সংসদে এলাকার প্রতিনিধিত্ব করেছেন, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন, দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মাঠে থেকেছেন—আজও তাঁর নির্বাচনী এলাকার মানুষ তাঁর সন্ধানের অপেক্ষায়।

এ কারণেই স্থানীয় মানুষের প্রশ্ন—

ইলিয়াস আলী কি ফিরবেন?

রাষ্ট্র কি তাঁকে খুঁজে বের করতে পারবে?

১৪ বছরের পুরোনো রহস্যের পূর্ণ সত্য কি প্রকাশ পাবে?

আর যদি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আইনভঙ্গের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া হবে?

এসব প্রশ্নের উত্তর এখন শুধু সিলেটের মানুষের নয়; জাতীয় পর্যায়েও গুরুত্বপূর্ণ।

(হিরুর লাকসামেও একই প্রশ্ন)

লাকসামের মানুষও একই প্রশ্ন নিয়ে অপেক্ষা করছে।

সাইফুল ইসলাম হিরু ছিলেন স্থানীয় বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ নেতা এবং সাবেক সংসদ সদস্য। তাঁর নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর পরিবার যেমন অপেক্ষা করেছে, তেমনি তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মী ও সমর্থকরাও বছরের পর বছর তাঁর সন্ধানের দাবি জানিয়ে আসছেন।

প্রশ্ন হচ্ছে—

১৩ বছর পরও কেন নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেল না?

কোন কোন সংস্থা অতীতে অনুসন্ধান করেছে?

তদন্তের কী অগ্রগতি হয়েছিল?

কোনো নতুন তথ্য কি সরকারের হাতে এসেছে?

পুরোনো নথিপত্র কি পুনরায় পর্যালোচনা করা হয়েছে?

এসব প্রশ্নের স্বচ্ছ উত্তর এখন প্রয়োজন।

দুটি পরিবার, দুটি অঞ্চল—অপেক্ষা এক

সিলেটের বিশ্বনাথ- বালাগঞ্জ -ওসমানীনগর এবং কুমিল্লার লাকসাম—ভৌগোলিকভাবে দুই ভিন্ন অঞ্চল।

কিন্তু দুই এলাকার মানুষের অপেক্ষার ভাষা একই।

একজনের নিখোঁজ হওয়ার পর কেটে গেছে প্রায় সাড়ে ১৪ বছর, অন্যজনের ক্ষেত্রে প্রায় ১৩ বছর।

এই দীর্ঘ সময়ের পরও স্বজনদের প্রত্যাশা শেষ হয়নি।

তাঁরা এখনো চান—রাষ্ট্র তাঁদের প্রিয়জনদের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য দিক।

দলীয় নেতাকর্মীরা চান—পুরোনো ঘটনাগুলোর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হোক।

আর সাধারণ মানুষ চান—কোনো ঘটনা যদি অপরাধের পর্যায়ে পড়ে থাকে, তাহলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

প্রশ্ন এখন সরকারের সামনে

বিএনপি দীর্ঘদিন বিরোধী দলে থেকে নিখোঁজ নেতাকর্মীদের সন্ধান এবং গুমের অভিযোগের বিষয়ে সোচ্চার ছিল। এখন সেই বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে।

তাই সরকারের কাছে প্রত্যাশাটিও স্বাভাবিকভাবেই বেশি।

এম ইলিয়াস আলী কোথায়—এই প্রশ্নের উত্তর কি তাঁর পরিবার পাবে?

সাইফুল ইসলাম হিরুর সন্ধান কি পাওয়া যাবে?

দুই সাবেক সংসদ সদস্যের নিখোঁজের ঘটনাগুলোর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত কি শেষ হবে?

নতুন তথ্য ও সাক্ষ্যগুলো কি যথাযথভাবে যাচাই করা হবে?

অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কি আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে?

এসব প্রশ্নের উত্তর সময়ই দেবে।

তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—স্বজনদের অপেক্ষার কোনো মেয়াদ নেই।

১৪ বছর কিংবা ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও একজন মা, স্ত্রী, সন্তান, ভাই কিংবা রাজনৈতিক সহকর্মীর কাছে অপেক্ষা শেষ হয়ে যায় না।

তাঁরা আজও দরজার দিকে তাকিয়ে থাকতে পারেন।

আজও একটি ফোনকলের অপেক্ষায় থাকতে পারেন।

আজও একটি খবরের আশায় থাকতে পারেন।

আর সেই প্রত্যাশাটিই রাষ্ট্রের কাছে সবচেয়ে বড় মানবিক দাবি—

“নিখোঁজদের সন্ধান চাই, সত্য জানতে চাই।”

ইলিয়াস আলীর সন্ধানে বিশ্বনাথে রক্তাক্ত আন্দোলন ও ইলিয়াস মুক্তি ছাত্র-যুব-শ্রমিক-
সেচ্চাসেবক,কৃষক ও জনতার মিলিত ঐক্যে সংগ্রাম পরিষদ গঠন ও আন্দোলন :

এম ইলিয়াস আলীর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুধু তাঁর পরিবার বা বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বই নয়, তাঁর নিজ নির্বাচনী এলাকাতেও ব্যাপক আন্দোলন গড়ে উঠেছিল।

২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর সন্ধানের দাবিতে সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করে। এর মধ্যে হরতাল, বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন, সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি ছিল।

সবচেয়ে বড় ও মর্মান্তিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে ২৩ এপ্রিল ২০১২, ইলিয়াস আলীর নিজ এলাকা বিশ্বনাথে।

সেদিন হরতাল চলাকালে বিশ্বনাথ উপজেলা সদরে পুলিশ, নিষিদ্ধলীগ সন্ত্রাসী বনাম ইলিয়াস আলীর হাতে শপতবদ্ধ কমান্ডের সৈনিক সহ আন্দোলনকারী ২০ দলীয় জোটের হরতালরত ব্যাপক সংঘর্ষ হয়।

সমসাময়িক প্রতিবেদনে জানা যায়, সংঘর্ষে জাকির সেলিম মনোয়ার গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান।
“শহীদ হন ” পরবর্তী বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাঁদের ইলিয়াস আলীর সন্ধানের দাবিতে আত্বত্যাগ সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে, বিশ্বনাথের শতাধিক নারী -পুরুষ প্রিয়নেতার সন্ধানের দাবিতে রাজপথে নেমে আসে।

“নারায়ে তাকবির আল্লাহু আকবার – ইলিয়াস আলী জিন্দাবাদ – ২০ দলীয় জোট জিন্দাবাদ ” শ্লোগানে বিশ্বনাথ শার্টডাউন করে দেয়া হয়”

 

এই ঘটনা বিশ্বনাথের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গভীর ক্ষত তৈরি করে।

তিন পরিবারের কান্না, একটি প্রশ্ন

মনোয়ার, সেলিম ও জাকিরের পরিবার তাঁদের প্রিয়জনদের হারানোর পর বিভিন্ন সময়ে আইনি প্রতিকার ও তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

একটি পর্যায়ে তাঁদের পরিবারের পক্ষ থেকে আদালতে পৃথক অভিযোগও করা হয়।

২০১২ সালের একটি স্থানীয় প্রতিবেদন থেকে জানা যায় ফ্যাসিষ্ট পুলিশলীগ উল্টো অভিযোগ দায়ের করে ৩৬৬ জনের নাম থাকার তথ্যও প্রকাশিত হয়েছিল। তবে এই ৩৬৬ সংখ্যাটি—মামলার আসামির সংখ্যা হিসেবে প্রতিবেদিত হয়েছিল।

এ কারণে ইলিয়াস আলীর সন্ধানের আন্দোলনে হতাহত ও মামলার সংখ্যার হিসাব নিয়ে প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্যসূত্রভিত্তিক সতর্কতা প্রয়োজন।

বিশ্বনাথে হাজারো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

২৩ এপ্রিলের সংঘর্ষের পর বিশ্বনাথে ব্যাপক মামলা হয়।

সমসাময়িক প্রতিবেদনে বলা হয়, সংঘর্ষের পর ৮ হাজার বিএনপি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দুটি মামলা করা হয়েছিল। একই প্রতিবেদনে তিনজনের প্রাণহানির কথাও উল্লেখ করা হয়।

অন্যদিকে একই সময় সিলেটের বিভিন্ন স্থানে ইলিয়াস আলীর সন্ধানের দাবিতে হরতাল ও সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে আরও মামলা হয়। ২৩ এপ্রিলের একটি প্রতিবেদনে সিলেটের টুকেরবাজার ও বিশ্বনাথে সংঘর্ষের ঘটনায় মোট সাড়ে ১২শ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ছয়টি মামলার কথা জানানো হয়েছিল।

পরবর্তীতে বিশ্বনাথে বিএনপি ও জামায়াত এবং তাদের অঙ্গসংগঠনের প্রায় ১২ হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দুটি মামলায় অভিযোগপত্র দাখিলের খবরও প্রকাশিত হয়।

অর্থাৎ ইলিয়াস আলীর সন্ধানের দাবিতে আন্দোলন শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; এর প্রভাব গিয়ে পড়েছিল হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের জীবনেও।

সারা দেশে হরতাল-অবরোধ, মামলা ও গ্রেপ্তারের দীর্ঘ অধ্যায়

ইলিয়াস আলীর নিখোঁজের প্রতিবাদে বিএনপি কেন্দ্রীয়ভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করে। তাঁর সন্ধানের দাবিতে সারা দেশে হরতাল, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়।

পরবর্তী বছরগুলোতে বিএনপি ও ২০-দলীয় জোটের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি, হরতাল ও অবরোধকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বিপুলসংখ্যক মামলা হয়।

এখানে একটি বিষয় আলাদা করে দেখা জরুরি—ইলিয়াস আলীর নিখোঁজের প্রতিবাদে হওয়া মামলা এবং পরবর্তী ২০১২- ২৪ সালের রাজনৈতিক কর্মসূচির মামলাগুলো একই পরিসরের ঘটনা । তাই সব মামলার সকল আসামিকে শুধু ইলিয়াস আলীর সন্ধান আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হিসাবে উল্লেখিত।

তবে সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিএনপি ও তার জোটের বহু নেতাকর্মী মামলা, গ্রেপ্তার, কারাবরণ ও হয়রানির মুখে পড়েছিলেন—এটি বিভিন্ন সময়ের সংবাদ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

(হিরু-হুমায়ূনের সন্ধানে লাকসামেও রাজপথে আন্দোলন)

এম ইলিয়াস আলীর নিখোঁজের প্রায় দেড় বছর পর, ২০১৩ সালের ২৭ নভেম্বর নিখোঁজ হন লাকসাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম হিরু এবং লাকসাম পৌর বিএনপির সভাপতি হুমায়ূন কবির পারভেজ।

তাঁদের সন্ধানের দাবিতে লাকসাম ও কুমিল্লায় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করে।

২০১৪ সালের এপ্রিলের মধ্যে তাঁদের নিখোঁজের পাঁচ মাস পূর্ণ হলেও সন্ধান না পাওয়ায় স্বজন ও দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বাড়ে।

হিরু-হুমায়ূন মুক্তি পরিষদ তাঁদের সন্ধানের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কে অনুষ্ঠিত সেই কর্মসূচিতে তাঁদের স্বজন ও দলীয় নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

এরপর ২৭ এপ্রিল ২০১৪ লাকসাম উপজেলা, পৌরসভা ও ন.ফ. সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের উদ্যোগে দুই বিএনপি নেতার সন্ধানের দাবিতে প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালিত হয়। বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা এতে অংশ নেন।

এর আগে ও পরে তাঁদের সন্ধানের দাবিতে বিভিন্ন মিছিল, সমাবেশ, মানববন্ধন ও রাজনৈতিক কর্মসূচির খবরও প্রকাশিত হয়।

লাকসামে লাগাতার হরতাল

হিরু ও হুমায়ূন কবির পারভেজের সন্ধানের দাবিতে শুধু অনশন বা মানববন্ধনেই আন্দোলন থেমে থাকেনি।

২০১৩ সালের ডিসেম্বর মাসে তাঁদের সন্ধানের দাবিতে লাকসাম, মনোহরগঞ্জ ও নাঙ্গলকোটে লাগাতার হরতাল কর্মসূচি পালনের খবর প্রকাশিত হয়। বিএনপি ও ১৮-দলীয় জোটের স্থানীয় নেতাকর্মীরা এসব কর্মসূচিতে অংশ নেন।

অর্থাৎ দুই সাবেক বিএনপি নেতার নিখোঁজের ঘটনা স্থানীয় রাজনীতিতে এমন গভীর প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল যে তাঁদের সন্ধানের দাবিতে রাজপথে হরতাল, মিছিল, মানববন্ধন ও অনশন পর্যন্ত করতে হয়েছিল।

এক যুগেরও বেশি সময় পরও একই প্রশ্ন

একদিকে ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল নিখোঁজ এম ইলিয়াস আলী।

অন্যদিকে ২০১৩ সালের ২৭ নভেম্বর নিখোঁজ সাইফুল ইসলাম হিরু ও হুমায়ূন কবির পারভেজ।

একজনের সন্ধানে বিশ্বনাথে রক্তাক্ত সংঘর্ষ, মামলা ও দীর্ঘ আন্দোলন।

অন্যজনের সন্ধানে লাকসামে হরতাল, মিছিল, মানববন্ধন ও প্রতীকী অনশন।

কিন্তু এত বছর পরও মূল প্রশ্নটি রয়ে গেছে—

তাঁরা কোথায়?

ইলিয়াস আলীর স্ত্রী আজ সংসদ সদস্য। বিএনপি আজ রাষ্ট্রক্ষমতায়। ইলিয়াস আলীর ঘটনা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্তের আওতায় এসেছে।

তাই স্বাভাবিকভাবেই স্বজন, নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা—এই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটুক।

যে তদন্ত যেখানে প্রয়োজন, তা হোক।

যে নথি যেখানে আছে, তা খতিয়ে দেখা হোক।

যে সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়, তা যাচাই করা হোক।

আর কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগের মাধ্যমে দায় নির্ধারণ করা হোক।

সবচেয়ে বড় কথা—

এম ইলিয়াস আলী, সাইফুল ইসলাম হিরু ও নিখোঁজ অন্য রাজনৈতিক নেতাদের সন্ধান রাষ্ট্রীয়ভাবে সর্বোচ্চ গুরুত্বে অনুসন্ধান করা হোক—এটাই এখন স্বজন ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা।

বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর থেকে লাকসাম—দুই অঞ্চলের মানুষের একটাই আকুতি:

“নিখোঁজদের সন্ধান চাই, সত্য জানতে চাই, স্বজনদের অপেক্ষার অবসান চাই।”

আবারো প্রশ্ন এখন সরকারের সামনে :

নিঁখোজ জামায়াত নেতা বিগ্রেডিয়ার জেনারেল আমান আজমী, ব্যারিষ্টার আরমান এমপি -ঢাকা-১৪,
সহি সালামতে ৩৬ শে জুলাই ২৪ বিপ্লবের পর ফিরে এসেছেন, এছাড়া বিএনপির প্রভাবশালী নেতা, আমাদের মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমেদ এমপি -কক্সবাজার -১ বহাল তরবিয়তে গুম নামক কারাগার থেকে ফিরে এসেছেন, সুস্থ আছেন, ক্ষমতা আমাদের অনুকূলে।

নিষিদ্ধলীগ, ফ্যাসিষ্ট, ডেভিল এখন পলাতক, জুলাই বিপ্লবী কমান্ড ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের ডানপন্তি শক্তি এখন সরকার ও বিরোধী দলে, সবই নিজের প্লাটফর্ম, তাহলে ৩৫০ সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীগণের কাছে কঠিক প্রশ্ন -? আপনাদের প্রিয় সহকর্মী
দুই সাবেক এমপি কই, তাঁরা কোথায় আছেন -? কবে ফিরবেন -? বিএনপি সরকার ক্ষমতায় ৮ মাস চলমান,
সরকারের চারদিকে উপগ্রহের মতো ঘুরঘুর করছেন “চাঁদের মতো শক্তিশালী অপজিশন ছায়া সরকার খ্যাত বিরোধীদল ”

তো সবি ঠিক আছে :- আপনাদের নক্ষত্র মহাননেতা কিংবদন্তি দেশবন্ধু এম.ইলিয়াস আলী এমপি ও নিঁখোজ এমপি সাইফুল ইসলাম হীরু কবে -কখন-কিভাবে সুস্থ- অক্ষত জীবন্ত ফিরে আসবেন আমরা স্পষ্ট জানতে চাই -?

(লেখা কপি করা নিষেধ)

(লেখক : ফিল্ডমার্শাল সাংবাদিক কবি এস.পি.সেবু,
সহ-দপ্তর সম্পাদক : জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধা দল সিলেট জেলা, দপ্তর সম্পাদক : জিয়া সংসদ সিলেট জেলা, সিনিয়র সহ-সভাপতি : জাতীয়তাবাদী সাইবার দল সিলেট জেলা।