নিহত বাংলাদেশি তরুণ তারা মিয়ার মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর
নিহত বাংলাদেশি তরুণ তারা মিয়ার মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর
admin
প্রকাশিত ১০ আগস্ট, সোমবার, ২০২৬ ২২:৫২:০৩
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সীমান্তে ভারতের অভ্যন্তরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত বাংলাদেশি তরুণ তারা মিয়ার (১৯) মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আজ (সোমবার, ১০ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার চাতলাপুর শুল্ক স্টেশন ও ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট এলাকায় বিএসএফ-বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) পতাকা বৈঠক হওয়ার পর ভারতীর পুলিশ কুলাউড়া থানা পুলিশের কাছে তারার মরদেহ হস্তান্তর করে।
এসময় দু’দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী, পুলিশ, সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি ও নিহতের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। নিহত তারা মিয়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের মুরইছড়া বস্তির বাসিন্দা আব্দুল মালেকের ছেলে।
সোমবার বিকেল ৫টায় তারার মরদেহ হস্তান্তরের জন্য চাতলাপুর শুল্ক স্টেশন ও ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট এলাকায় পতাকা বৈঠক হয়। নিহত তারার বড় ভাই রাজু মিয়া মরদেহ গ্রহণ করেন।
এসময় সেখানে কুলাউড়া থানার ওসি জহুরুল ইসলাম মুন্না, ত্রিপুরার ইরানি থানার ইন্সপেক্টর শ্রীকান্ত চক্রবর্তী, বিজিবির ৪৬ ব্যাটালিয়নের আলীনগর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার কাজী নাসিম, বিএসএফের মাগুরউলী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার এসি রোহিত, কুলাউড়া থানার এসআই ফরহাদ মাতব্বর, কর্মধা ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সিলভেস্টার পাঠান উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত রোববার (৯ আগস্ট) ভোরে কর্মধা ইউনিয়নের মুরইছড়া বস্তির বাসিন্দা কানু মিয়ার ছেলে রেনু মিয়া (৩৬), রইস আলীর ছেলে সুমন মিয়া (১৮) ও রইস আলীর সঙ্গে নিহত তারা মিয়া পৃথিমপাশা ইউনিয়নের আলীনগরের শিকরিয়া সীমান্ত দিয়ে ভারতের মাগুরউলী এলাকায় অবৈধভাবে প্রবেশ করেন সিগারেট, নাসির বিড়িসহ চোরাইপণ্য আনতে।
এসময় বিএসএফের টহল দল তাদের গতিরোধ করার চেষ্টা করলে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই তারা মিয়া নিহত হন। এসময় তার সঙ্গে থাকা বাকি সহযোগীরা পালিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আত্মগোপনে চলে যান।
কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে আইনি প্রক্রিয়া শেষে চাতলাপুর স্থলবন্দর সীমান্ত দিয়ে ভারতীর পুলিশ সোমবার বিকেলে কুলাউড়া থানা পুলিশের কাছে তারা মিয়ার মরদেহ হস্তান্তর করেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে নিহতের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।’
নিহত তারা মিয়ার মাতা আজিরুন্নেছা বলেন, ‘আমার ছেলে কখনো চোরাকারবারের সঙ্গে জড়িত ছিল না। টাকার লোভ দেখিয়ে আমার ছেলেকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় স্থানীয় সুমনসহ কয়েকজন লোক। তখন বাঁধা দিলে ছেলে কথা শুনেনি।’
তিনি বলেন, ‘পরে তারা ভারতে ঢুকে পড়লে বিএসএফ আমার ছেলেকে গুলি করে মেরে ফেললো। আমার বুকটা খালি হই গেল।’
৪৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘বাংলাদেশি তরুণ তারা নিহত হওয়ার ঘটনায় পতাকা বৈঠকে তাদের পক্ষ থেকে বিএসএফের কর্মকর্তাদের কাছে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। নিহত তারা মিয়া চোরাকারবারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার স্বজনেরাও বিষয়টি স্বীকার করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি সীমান্ত এলাকায় কিছু উঠতি বয়সী তরুণ-যুবকরা অপরাধ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হয়েছে। এসব কার্যক্রম বন্ধে বিজিবির পক্ষ থেকে স্থানীয় লোকদের নিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। আগামীতেও এ কার্যক্রম পরিচালনা অব্যাহত থাকবে। এছাড়া সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহলও বাড়ানো হবে।’