১৮ বছর পর বেঁচে ফিরলেন ‘মৃত’ আলমগীর, কিন্তু আদরের স্ত্রী এখন অন্যের সংসারে
১৮ বছর পর বেঁচে ফিরলেন ‘মৃত’ আলমগীর, কিন্তু আদরের স্ত্রী এখন অন্যের সংসারে
admin
প্রকাশিত ০১ আগস্ট, শনিবার, ২০২৬ ২২:০০:১৪
১৮ বছর পর বেঁচে ফিরলেন ‘মৃত’ আলমগীর, কিন্তু আদরের স্ত্রী এখন অন্যের সংসারে
যার রূহের মাগফিরাত কামনা করে বহু আগেই মিলাদ ও দোয়া মাহফিল শেষ করেছিল পরিবার, সেই মানুষটিই ১৮ বছর পর সশরীরে বাড়ির উঠোনে এসে দাঁড়ালেন! কিন্তু এই অলৌকিক ফেরার আনন্দ এক নিমিষেই ঢেকে গেল ঘোর বিষাদে। দীর্ঘ ১৮ বছর পর ‘মৃত’ আলমগীর হাওলাদার জীবিত ফিরে এলেও আর খুঁজে পাননি নিজের ফেলে যাওয়া সংসার; পথ চেয়ে থাকা স্ত্রী আজ অন্য কারও ঘরণী।
হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ঘটেছে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী গ্রামে।
১৮ বছর আগে পরিবারের মুখে দুবেলা দুমুঠো ভাত তুলে দেওয়ার তাগিদে ঢাকায় পাড়ি জমিয়েছিলেন আলমগীর। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পরই তিনি পড়েন এক নির্মম অপরাধী চক্রের পালে। চক্রটি তাকে অপহরণ করে এক অন্ধকার বন্দিশালায় আটকে রাখে। টানা ১৮টি বছর ধরে তার ওপর চলে অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক নি|র্যা|তন। জোরপূর্বক করানো হতো কঠিন শারীরিক শ্রম, বাইরের পৃথিবীর সঙ্গে সব যোগাযোগ কেটে দেওয়া হয়েছিল পুরোপুরি।
দীর্ঘ নরকযন্ত্রণা সহ্য করে সম্প্রতি কোনোমতে প্রাণ বাঁচিয়ে গ্রামে ফিরে আসেন তিনি। তবে গ্রামে ফিরে যে বাস্তবতার মুখোমুখি আলমগীর হয়েছেন, তা কল্পকাহিনীর চেয়েও নিষ্ঠুর।
যে বাবা-মায়ের স্নেহের পরশে ফিরতে চেয়েছিলেন, তারা ছেলের পথ চেয়ে চেয়ে বহু আগেই ওপারে পাড়ি জমিয়েছেন। নিখোঁজ হওয়ার সময় যে কন্যাটি কোলে দুগ্ধপোষ্য শিশু ছিল, সে আজ বড় হয়ে শ্বশুরবাড়িতে। আর আলমগীরের ফিরে আসার আশা ছেড়ে দিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষার পর স্ত্রীও একসময় বাধ্য হয়ে অন্যত্র নতুন সংসার শুরু করেছেন। সেখানে এখন তার নতুন জীবন ও সন্তান রয়েছে।
নির্যাতন ও অপুষ্টিতে আলমগীরের শারীরিক অবয়ব এতটাই বদলে গেছে যে, নিজের আপন ভাইও তাকে প্রথম দেখায় চিনতে পারেননি। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর দুই ভাই জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
বর্তমানে এই নিঃস্ব মানুষটির পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় সমাজকর্মী বদিউজ্জামান সাহেদ। তিনি আলমগীরের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের দায়িত্ব নিয়েছেন।
এদিকে একজন মানুষের জীবনের সোনালী ১৮টি বছর কেড়ে নেওয়া এবং তাকে এই মানবিক বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেওয়া কুখ্যাত অপরাধী চক্রটিকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।