সিলেটের রেঞ্জ ডিআইজির আদেশ অমান্য করে বদলির দুই মাসেও সিলেট ত্যাগ করেননি ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) মুহাম্মদ শাহাব উদ্দিন। নিজের ক্ষমতা আর অদৃশ্য শক্তির বলে বদলির আদেশ অমান্য করেই দুই মাস ধরে সিলেটে চালিয়ে যাচ্ছেন তার কর্মযজ্ঞ।
আলোচিত এই টিআই মুহাম্মদ শাহাব উদ্দিন সিলেট জেলায় যোগদান করেন ২৩ এপ্রিল। তিনি যোগদানের পর থেকেই টাকা কামাইয়ে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। নিজের অর্ধকোটি টাকার হাইব্রিড নোহা গাড়ি নিয়ে জেলার জকিগঞ্জ রোড, তামাবিল রোড, কোম্পানিগঞ্জ রোড, সিলেট-সুনামগঞ্জ রোড, ঢাকা-সিলেট রোডের ওসমানীনগর ও বিশ্বনাথে চেকপোস্টের নামে সড়কে বসান যানবাহন থেকে টাকা আদায়ের টোলপ্লাজা।
প্রতিটি চেকপোস্ট হতে যানবাহন থেকে প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা আদায় করতেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১০ জুন গাড়ির সব কাগজ ঠিক থাকা সত্ত্বেও তামাবিল রোডে একটি গাড়ি থেকে রঙের ত্রুটি দেখিয়ে পাঁচ হাজার টাকার মামলা দেন।
এ নিয়ে গাড়ির স্থানীয় মালিক ও পরিবহণ শ্রমিকরা রাস্তা অবরোধ করলে জেলা ট্রাক পিকআপ কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা গিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করেন। এমন অভিযোগ এনে ১১ জুন শ্রমিক নেতারা তার বিরুদ্ধে সিলেটের ডিআইজি বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। আর এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ১৬ জুন সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাকে হবিগঞ্জ জেলায় বদলি করা হয়।
যদিও এ আদেশে লেখা রয়েছে- তাকে জনস্বার্থে বদলি করা হয়েছে। আর এ আদেশে হবিগঞ্জ জেলার ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) মো. ইমরানুল হক মৃধাকে বদলি করা হয় সিলেট জেলায়।
আদেশের পর ইমরানুল হক মৃধা গত ২৫ জুন হবিগঞ্জ থেকে সিলেট পুলিশ লাইনে চলে যান। প্রায় ১ মাস ২০ দিন ধরে ইমরানুল হক মৃধা কর্মস্থলে যোগদানের অপেক্ষায় রয়েছেন; কিন্তু শাহাব উদ্দিনের বদলির ১ মাস ২৫ দিন অতিবাহিত হলেও তিনি এখন পর্যন্ত সিলেট জেলা ট্রাফিক অফিসে কর্মরত রয়েছেন। ফলে ইমরানুল হক মৃধা যোগদান করতে পারছেন না। এ নিয়ে পরিবহণ শ্রমিকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চাপা ক্ষোভ আর অসন্তোষ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা ট্রাক পিকআপ কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যেকোনো সময় তারা ফের আন্দোলনে নামবেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে টিআই মুহাম্মদ শাহাব উদ্দিন বলেন, আমার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগের তদন্ত করেছেন ডিআইজি স্যার। আর বিস্তারিত জানতে হলে এই প্রতিবেদককে তার অফিসে যেতে বলেন।
জানতে চাইলে ট্রাফিকের দায়িত্বে থাকা সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফুজ্জামান বলেন, বদলির আদেশ হয়েছে সঠিক। হয়তো ব্যক্তিগত কোনো কারণে আটকা পড়েছেন। শিগগিরই চলে যাবেন বলে তিনি জানান।