সিলেটে ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও ভোল্টেজের ওঠানামায় বিপাকে শিল্প উদ্যোক্তারা
সিলেটে ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও ভোল্টেজের ওঠানামায় বিপাকে শিল্প উদ্যোক্তারা
admin
প্রকাশিত ৩১ আগস্ট, সোমবার, ২০২৬ ১২:২৫:২১
সিলেটে ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও ভোল্টেজের ওঠানামায় বিপাকে পড়েছেন শিল্প উদ্যোক্তারা
সিলেটে ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও ভোল্টেজের ওঠানামায় বিপাকে পড়েছেন শিল্প উদ্যোক্তারা। বিদ্যুৎ না থাকায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ভোল্টেজ কম-বেশির কারণে পুড়ে যাচ্ছে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি। এতে উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে মেরামত ও নতুন যন্ত্রপাতি কেনার খরচ। সব মিলিয়ে লোকসানের মুখে পড়েছে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো।
শিল্প মালিকদের অভিযোগ, গত পাঁচ থেকে ছয় মাস ধরে নগরীর গোটাটিকর বিসিক শিল্পনগরীতে প্রতিদিন সাত থেকে আটবার বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে। কোনো কোনো দিন তিন থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না। আবার বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকলেও ভোল্টেজের ওঠানামার কারণে মেশিন ঠিকভাবে চালানো যাচ্ছে না।
গোটাটিকর বিসিক শিল্পনগরীতে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, কৃষি যন্ত্রপাতি তৈরি ও অন্যান্য খাতের প্রায় ৪০টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে সাধারণত প্রতিদিন আট ঘণ্টা উৎপাদন কার্যক্রম চলে। তবে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে বর্তমানে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টার বেশি কার্যকরভাবে মেশিন চালানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে উৎপাদন সক্ষমতার বড় একটি অংশ কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
শিল্প উদ্যোক্তারা জানান, বিদ্যুৎ না থাকলে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হয়। ভোল্টেজ কমে গেলেও মেশিন চালানো সম্ভব হয় না। আবার দীর্ঘ সময় ভোল্টেজ ওঠানামা করলে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ পুড়ে যায়। এতে মেরামত কিংবা নতুন যন্ত্রাংশ কিনতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। জেনারেটর ব্যবহার করেও সব ধরনের মেশিন চালানো সম্ভব হচ্ছে না।
এতে উৎপাদন কমার পাশাপাশি কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে এবং প্রতিষ্ঠানের পরিচালন ব্যয়ও বাড়ছে। উদ্যোক্তাদের দাবি, উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় ব্যাংকঋণের কিস্তি, সরকারি কর ও কারখানার নিয়মিত খরচ মেটাতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।
এ পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও ভোল্টেজের ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সিলেটের প্রধান প্রকৌশলীর কাছে লিখিত আবেদন করেছে বিসিক শিল্প মালিক সমিতি। শিল্পাঞ্চলের জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন তারা।
তামাম পিভিসি ইন্ডাস্ট্রির প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মোকাদ্দেস হোসেন বলেন, ‘ছোট প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমাদের যে হারে ক্ষতি হচ্ছে, বড় প্রতিষ্ঠানগুলোরও একই আনুপাতিক হারে ক্ষতি হচ্ছে। তাই শিল্পাঞ্চলের জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’
বিসিক শিল্প মালিক সমিতি সিলেটের সভাপতি আলীমুল এহছান চৌধুরী বলেন, ‘ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মধ্যে বারবার ভোল্টেজ ওঠানামা করছে। এতে একদিকে ঠিকমতো মেশিন চালানো যাচ্ছে না, অন্যদিকে ভোল্টেজের ওঠানামার কারণে মেশিন বিকল হয়ে যাচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত কয়েক মাসে মেশিন বিকল হওয়ায় বেশ ক্ষতির মধ্যে পড়তে হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে আগামীতে আরও ক্ষতির পরিমাণ বাড়বে।’
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সিলেট মহানগর ও আশপাশের শহরাঞ্চলে পিডিবির আওতায় বিদ্যুতের চাহিদা ১৭০ থেকে ২০০ মেগাওয়াট। জেলা ও বিভিন্ন উপজেলায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় চাহিদা প্রায় ৩০৭ মেগাওয়াট। জাতীয় গ্রিড থেকে বর্তমানে সিলেটে ১৪০ থেকে ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
সিলেট পিডিবির প্রধান প্রকৌশলী ইমাম হোসেন বলেন, ‘বিদ্যুৎ বিভ্রাটের বিষয়টি জাতীয় ইস্যু।’ তবে আগের তুলনায় সিলেটের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি এখন অনেকটা উন্নতি হচ্ছে বলেও জানান তিনি।