নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর | ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী এলাকায় সহিংসতা ও পেশিশক্তির ব্যবহারের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও রংপুর-৪ আসনের প্রার্থী আখতার হোসেন। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সারা দেশে শুরু হওয়া সহিংসতার দায় বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বকে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের খোপাতি গ্রামে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকের নির্বাচনী উঠান বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান
আখতার হোসেন সরাসরি বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, “সারা দেশে যে সহিংসতার রাজনীতি শুরু হয়েছে, তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দায়িত্ব নিতে হবে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, নতুন বাংলাদেশে কোনোভাবেই ফ্যাসিবাদ বা পেশিশক্তির রাজনীতিতে ফিরে যাওয়ার সুযোগ নেই।
২০১৮-র সুবর্ণচর প্রসঙ্গের অবতারণা
নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপির আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এনসিপি নেতা বলেন, ২০১৮ সালে নোয়াখালীর সুবর্ণচরে এক নারীর ওপর যে বর্বরোচিত নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছিল, বর্তমান বিএনপির আচরণ সেই স্মৃতিকেই মনে করিয়ে দিচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনী মাঠে বিএনপি কর্মীরা অশ্রাব্য গালিগালাজ এবং নারীদের পোশাক খুলে দেওয়ার মতো ঘৃণ্য হুমকি দিচ্ছে, যা চরম অপরাধ।
রংপুর-৪ আসনে হামলার অভিযোগ
আখতার হোসেন দাবি করেন, কাউনিয়া-পীরগাছা আসনে বিএনপির জনসমর্থন না থাকায় তারা এনসিপি এবং জামায়াতের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার পথ বেছে নিয়েছে। বিশেষ করে পীরগাছার ইটাকুমারি মমিন বাজারে শাপলা কলি প্রতীকের সমর্থক ও জামায়াত নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
নির্বাচনী মাঠে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এই প্রার্থী। তিনি অভিযোগ করেন, হামলা ও হেনস্তার ঘটনায় জড়িত বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসন গড়িমসি করছে।
জয়ের বিষয়ে আশাবাদী এনসিপি
সব বাধা জয় করে আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয়লাভের আশা প্রকাশ করেন আখতার হোসেন। তিনি বলেন, “সাধারণ মানুষের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে যে সাড়া পাওয়া যাচ্ছে, তাতে আমরা নিশ্চিত যে আগামী ১২ তারিখে কাউনিয়া ও পীরগাছা আসনে শাপলা কলি প্রতীক বিশাল ব্যবধানে জয়ী হবে।”
উক্ত উঠান বৈঠকে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতারাও উপস্থিত ছিলেন, যা এই আসনে একটি বিশেষ নির্বাচনী জোট বা সংহতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশ্লেষণাত্মক নোট: আপনি লক্ষ্য করেছেন যে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এনসিপি এবং জামায়াতের মধ্যে একটি কৌশলগত ঐক্যের সুর পাওয়া যাচ্ছে, যা ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে।