প্রতিবেদনঃ মোঃ জাহেদ আহমেদ (শাকিল): বৃহস্পতিবার রাতে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার ছাবাল শাহর মাজারে গানের আসরে গান গেয়েছিলেন বাউলশিল্পী পেহলি ভৈরবী। তার গানে মুগ্ধ হয়েছিলেন উপস্থিত শ্রোতারা। কেউ কেউ সেই গানের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারও করেছিলেন। তবে রাত পেরিয়ে সকাল হতেই আসে তার মৃত্যুর খবর।
শুক্রবার সকালে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হন পেহলি ভৈরবী। এ দুর্ঘটনায় শিশুসহ নয়জন নিহত এবং অন্তত ২০ থেকে ২৫ জন আহত হয়েছেন।
নিহত পেহলি ভৈরবীর বয়স ২৩ বছর। তিনি কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার চন্ডিবের এলাকার বাবুল মিয়ার মেয়ে।
স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, বৃহস্পতিবার রাতে তিনি ছাবাল শাহর মাজারের গানের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। পেহলি ভৈরবীর গানের কয়েকটি ভিডিও তিনি ধারণ করেছেন এবং ফেসবুকে লাইভও করেছেন। তার ভাষ্য, পেহলি ভৈরবীর বাড়ি ভৈরবে। এর আগেও তিনি ওই মাজারে এসে গান গেয়েছেন।
জানা গেছে, ‘বন্ধন স্টুডিও’ নামের একটি ফেসবুক পেজে শাহীন আহমদ বৃহস্পতিবার রাতের অনুষ্ঠানে পেহলি ভৈরবীর গাওয়া একটি গান প্রচার করেছেন। অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিলেন সোহেল আহমদ। তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
শুক্রবার বিকেল সাড়ে তিনটা পর্যন্ত দুর্ঘটনায় নিহত নয়জনের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। পেহলি ভৈরবী ছাড়া নিহতদের মধ্যে রয়েছেন তিন বছরের শিশু জাইফা, সিলেট নগরের সোবহানীঘাটের বাসিন্দা সপ্তম রায় প্রীতম (২৬), কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের আবুল হোসেন (৪৪) এবং কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের হাফিজ আরমান হোসেন রাহিম (১৯)।
শিশু জাইফা দক্ষিণ সুরমার চন্ডিপুল বাইপাস এলাকার জাহাঙ্গীর শেখের মেয়ে। দুর্ঘটনায় জাইফার বাবা ও মা আহত হয়েছেন। মেয়ের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তারা বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা।
শুক্রবার সকাল সাতটার দিকে কাশিকাপন এলাকায় ইউনিক পরিবহন ও বেঙ্গল পরিবহনের দুটি বাসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। স্থানীয়রা জানায়, সিলেটগামী বেঙ্গল পরিবহনের বাসটি ওভারটেক করার সময় ইউনিক পরিবহনের বাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে দুই বাসের সামনের অংশসহ বিভিন্ন জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইউনিক পরিবহনের বাসটি পরে সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়।
দুর্ঘটনায় অন্তত ২০ থেকে ২৫ জন আহত হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।