৫ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শিক্ষার্থীদের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পাঠাগার ও পাঠচক্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

admin
প্রকাশিত ০৪ নভেম্বর, বুধবার, ২০২৬ ২৩:১৭:০৩
শিক্ষার্থীদের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পাঠাগার ও পাঠচক্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

শিক্ষার্থীদের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পাঠাগার ও পাঠচক্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা, জ্ঞানচর্চা ও সৃজনশীলতা বিকাশে বিদ্যালয়ভিত্তিক পাঠাগার ও পাঠচক্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এমপি। তিনি বলেন, শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; আনন্দের সঙ্গে গল্প, ইতিহাস, বিজ্ঞান ও জ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য বিদ্যালয়গুলোতে পাঠাগার ও পাঠচক্র কার্যক্রমকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে হবে।

আজ বুধবার হবিগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে হবিগঞ্জ জেলাধীন স্কুল ও পাঠাগারসমূহে ‘আনন্দ পাঠের আসর’ শীর্ষক পাঠচক্রের উদ্বোধন এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বই পড়ার মধ্যে আনন্দ রয়েছে; নতুন কিছু জানার মধ্যেও রয়েছে আলাদা আনন্দ। শিক্ষার্থীদের স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত সময় ব্যয় না করে বই পড়া, খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে বেশি সম্পৃক্ত হতে হবে। পাঠাগার শুধু বইয়ের সংগ্রহশালা নয়, এটি জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়ার অন্যতম মাধ্যম। ইতিহাসের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, বাগদাদের ‘বাইতুল হিকমা’ গ্রন্থাগার জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা ও ইসলামের সুবর্ণ যুগের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী নিজের বই পড়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গল্পগুচ্ছ’ পড়ার স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, পাঠ্যবইয়ের প্রয়োজনে গল্পগুচ্ছ পড়তে শুরু করলেও গল্পগুলোর প্রতি আগ্রহ তৈরি হওয়ায় পরবর্তী সময়ে আনন্দের জন্য বইটি পড়ার অভ্যাস গড়ে ওঠে। শিক্ষার্থীদেরও আনন্দের জন্য বেশি বেশি বই পড়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্মের জ্ঞান ও মেধার বিকাশে নিয়মিত পাঠাভ্যাস অত্যন্ত জরুরি। ইন্টারনেটে নানা ধরনের তথ্য ও জ্ঞানভিত্তিক উপকরণ থাকলেও সেগুলো থেকে উপকৃত হতে হলে অনুসন্ধান ও মনোযোগ দিয়ে পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষায় বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সেই বিনিয়োগের উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। জিডিপি বা মোট দেশজ উৎপাদনের ধারণা ব্যাখ্যা করে তিনি শিক্ষার্থীদের অর্থনীতি ও রাষ্ট্রের উন্নয়ন সম্পর্কে জানার আগ্রহ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি শিক্ষার্থীদের শুধু তথ্য গ্রহণ নয়, বিষয় বুঝে শেখা এবং নিজের মতামত প্রকাশের চর্চা করার আহ্বান জানান। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন এবং তাদের বই পড়া, গণিত ও অন্যান্য বিষয়ে আগ্রহের কথা জানতে চান।

হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. জি. এম. সরফরাজের সভাপতিত্বে সভায় পুলিশ সুপার মো. তারেক মাহমুদ, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির কান্ট্রি ডিরেক্টর জেসি উড, সিভিল সার্জন ডা. রত্নদীপ বিশ্বাস, জেলা শিক্ষা অফিসার ফরিদা নাজনীন ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. শাহ আলম বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন। এ সময় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।