সিলেট-জাফলং রোডে নারীদের স্পর্শ, অতিরিক্ত যাত্রী বহন ও ভাড়া নিয়ে হয়রানিসহ নানা অভিযোগে হেল্পার বরখাস্ত
সিলেট-জাফলং রোডে নারীদের স্পর্শ, অতিরিক্ত যাত্রী বহন ও ভাড়া নিয়ে হয়রানিসহ নানা অভিযোগে হেল্পার বরখাস্ত
admin
প্রকাশিত ২৪ আগস্ট, সোমবার, ২০২৬ ০০:৪১:১৪
সিলেটের জাফলং রোডে একটি বাসের হেল্পারের বিরুদ্ধে যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, নারী যাত্রীদের স্পর্শ করে ভাড়া নেওয়া, অতিরিক্ত যাত্রী বহন ও ভাড়া নিয়ে হয়রানিসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ পাওয়ার পর বাস মালিক-সমিতির পক্ষ থেকে ওই হেল্পারকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এক যাত্রীর অভিযোগের বরাত দিয়ে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে টিলাগড় থেকে জৈন্তাপুর যাওয়ার জন্য জাফলংগামী একটি বাসে ওঠেন তিনি। বাসটিতে তখন কোনো সিট খালি ছিল না এবং অনেক যাত্রী দাঁড়িয়ে ছিলেন। এরপরও হেল্পার একের পর এক যাত্রী বাসে তুলতে থাকেন। এ নিয়ে যাত্রীরা কথা বললে তাদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করার অভিযোগ ওঠে।
ওই যাত্রীর দাবি, মহিলা যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া নেওয়ার সময় হেল্পার মাথায় হাত দিয়ে স্পর্শ করে টাকা চাইছিলেন। এক বয়স্ক নারী বিষয়টির প্রতিবাদ করলে তার সঙ্গেও কটু ও অশোভন আচরণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ছাড়া টিলাগড় থেকে জৈন্তাপুরের ভাড়া ৭০ টাকা হলেও ১০০ টাকার নোট দেওয়ার পর তাকে ২০ টাকা ফেরত দেওয়া হয় বলে দাবি করেন ওই যাত্রী। বাকি ১০ টাকা চাইলে হেল্পার ভাড়ার চার্ট দেখাতে অস্বীকৃতি জানান এবং বাসে না ওঠার পরামর্শ দেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারী আরও জানান, অতিরিক্ত ভিড়ের মধ্যে হেল্পারের চলাফেরা ও যাত্রীদের সঙ্গে তার আচরণেও তিনি অস্বস্তি বোধ করেন। রাস্তার পাশে যাত্রীরা বাসে ওঠার জন্য সংকেত দেওয়ার পর ভিড়ের কারণে কেউ না উঠলে তাদেরও গালাগালি করা হতো বলে তার অভিযোগ।
একপর্যায়ে ওই যাত্রী হেল্পারের পরিচয় জানতে চাইলে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে তিনি জৈন্তাপুর থানার সামনে বাস থেকে নেমে বাসের ম্যানেজারকে খোঁজ করেন। তাকে না পেয়ে বাস সমিতির এক মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুরো ঘটনা জানান।
পরদিন জৈন্তাপুর বাসস্টেশনে বাস সমিতির এক দায়িত্বশীল ব্যক্তির সঙ্গে তার দেখা হয়। তিনি ওই হেল্পারের ছবি দেখিয়ে ঘটনাটি বিস্তারিত জানান। তখন বাস সমিতির ওই দায়িত্বশীল ব্যক্তি তাকে জানান, হেল্পারের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক অভিযোগ এসেছে। একই দিন বিকেলে এক যাত্রীর মোবাইল ও টাকা-পয়সা আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছিল এবং পরে তাকে চিহ্নিত করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
বাস সমিতির পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। পরে ওই হেল্পারকে বাসের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অভিযোগকারী।
অভিযোগকারী বলেন, অন্যায় দেখলে নীরব না থেকে প্রমাণসহ, শালীন ও আইনসম্মতভাবে প্রতিবাদ করা প্রয়োজন। তবে তার উদ্দেশ্য কাউকে ব্যক্তিগতভাবে হেয় করা নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের জানানো হয়েছে এবং তাদের পক্ষ থেকেই ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।