আত্মহত্যাপ্রবণ ব্যবহারকারীদের নিয়ে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করলেন ওপেনএআই প্রধান স্যাম অল্টম্যান
আত্মহত্যাপ্রবণ ব্যবহারকারীদের নিয়ে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করলেন ওপেনএআই প্রধান স্যাম অল্টম্যান
admin
প্রকাশিত ১৩ সেপ্টেম্বর, শনিবার, ২০২৫ ১০:৫৬:১৪
চ্যাটজিপিটি ব্যবহারকারীদের মধ্যে আত্মহত্যাপ্রবণ ব্যক্তিদের সহায়তা করতে না পারার বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান। তাঁর ভাষায়, “প্রতি সপ্তাহে হাজারখানেক মানুষ আত্মহত্যার আগে চ্যাটজিপিটির সঙ্গে কথা বলেন। তাঁদের কাউকে যদি থামানো যেত, সেটাই আমার বড় আফসোস।”
সম্প্রতি মার্কিন সাংবাদিক টাকার কার্লসনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অল্টম্যান এই কথা জানান।
মূল উদ্বেগ ও বাস্তবতা
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য: প্রতিবছর প্রায় ৭ লাখ ২০ হাজার মানুষ আত্মহত্যা করেন।
অল্টম্যানের ধারণা অনুযায়ী, তাঁদের মাত্র ১০ শতাংশও যদি চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করেন, তাহলে প্রতি সপ্তাহে প্রায় দেড় হাজার মানুষ আত্মহত্যার আগে এআইয়ের সঙ্গে কথা বলেছেন।
অল্টম্যান বলেন, “হয়তো আমরা কিছু ভালো বলতে পারতাম, হয়তো আরও সক্রিয় হতে পারতাম।”
এই উদ্বেগ শুধুই তত্ত্ব নয়। সম্প্রতি এক কিশোরের আত্মহত্যার ঘটনায় তাঁর পরিবার ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। ঘটনাটিকে অল্টম্যান “একটি মর্মান্তিক ঘটনা” বলে বর্ণনা করেছেন।
গোপনীয়তা বনাম নিরাপত্তা
অল্টম্যান জানান, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতিতে কীভাবে দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানানো যায়, তা নিয়ে গবেষণা চলছে। তবে এতে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা লঙ্ঘনের আশঙ্কা রয়েছে। তাই এখনো কোনো স্থায়ী নীতি হয়নি।
দেশভেদে নীতিগত পার্থক্য
কানাডা ও জার্মানির মতো দেশে যেখানে আত্মহত্যায় সহায়তা করা আইনসিদ্ধ, সেখানে প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটি এ বিষয়ে অপশন উল্লেখ করতে পারে।
তবে অল্টম্যান স্পষ্ট করেন, মডেল যেন কখনোই নৈতিক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে না দেয়, কেবলমাত্র তথ্য দেয়।
সিদ্ধান্ত গ্রহণে চূড়ান্ত দায়
অল্টম্যান বলেন, ওপেনএআইয়ের সিদ্ধান্তে নৈতিক বিশেষজ্ঞ ও উপদেষ্টাদের মত নেওয়া হয়, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তিনি ও বোর্ড নেন। তাঁর ভাষায়, “এ বিষয়ে যাকে দায়ী করা উচিত, তিনি আমি।”
চ্যাটজিপিটির প্রভাব
সাক্ষাৎকারে আরও উঠে আসে, চ্যাটজিপিটি মানুষের লেখার ধরনে সূক্ষ্ম প্রভাব ফেলছে। অল্টম্যান হালকা মজায় বলেন, “এমনকি চ্যাটজিপিটির ছন্দ বা কাঠামোও মানুষের লেখায় ঢুকে পড়ছে।”
👉 রোবট বিপ্লব নয়, বরং মানুষের আচরণ ও লেখালেখির অদৃশ্য পরিবর্তনই অল্টম্যানকে বেশি ভাবিয়ে তোলে।