৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ইতালি যাওয়ার পথে লিবিয়ায় পুলিশের গুলিতে মাদারীপুরের তিন যুবক নিহত: এলাকায় শোক ও ক্ষোভ

admin
প্রকাশিত ১৯ নভেম্বর, বুধবার, ২০২৫ ২২:০৭:৪৬
ইতালি যাওয়ার পথে লিবিয়ায় পুলিশের গুলিতে মাদারীপুরের তিন যুবক নিহত: এলাকায় শোক ও ক্ষোভ

ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর পুলিশের গুলিতে মাদারীপুরের তিন যুবক নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) রাতে দালাল সেলিম খান ঘটনাটি নিহতদের পরিবারের কাছে নিশ্চিত করেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় নেমে আসে শোকের মাতম।


নিহত তিনজন

  1. ইমরান খান (২২) — আদিত্যপুর, কুনিয়া ইউনিয়ন, সদর উপজেলা

  2. মুন্না তালুকদার (২৪) — দুর্গাবদ্দী গ্রাম, রাজৈর উপজেলা

  3. বায়েজিত শেখ (২০) — ঘোষলাকান্দি গ্রাম, রাজৈর উপজেলা


২২ লাখের চুক্তিতে ইতালি যাওয়ার পরিকল্পনা

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লিবিয়ায় অবস্থানরত দালাল শিপন খান এবং দেশে থেকে লেনদেন পরিচালনাকারী তার ভাই সেলিম খান প্রতিজন তরুণকে ২২ লাখ টাকায় সরাসরি ইতালি পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
চুক্তি অনুযায়ী তিন যুবক ৮ অক্টোবর বাড়ি ছাড়েন।


লিবিয়ায় পৌঁছে নির্যাতনের অভিযোগ

নিহত ইমরানের পরিবার জানায়—

  • লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর ইমরানকে আটক করে নির্যাতন করা হয়

  • মুক্তির জন্য দালালরা আরও ১৮ লাখ টাকা আদায় করে

  • সর্বশেষ ১ নভেম্বর ইমরান মায়ের সঙ্গে তিন মিনিটের জন্য কথা বলেন এবং বলেন:
    “মা, এখানে আমাকে অনেক নির্যাতন করা হচ্ছে। জানি না কী হবে।”

তারপর আর যোগাযোগ হয়নি।


১৮ দিন পর মৃত্যু সংবাদ

মঙ্গলবার রাতেই সেলিম খান তিন পরিবারকে জানান—
তিনজনই পুলিশের গুলিতে মারা গেছেন।

এরপর থেকে তিন পরিবারেই চলছে আহাজারি; পাড়া-প্রতিবেশীদের ভিড় বাড়ছে নিহতদের বাড়িতে।


দালাল চক্রের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের অভিযোগ

স্থানীয় কয়েকজনের দাবি—

  • শিপন খান বহু বছর ধরে লিবিয়ায় মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত

  • তার ভাই সেলিম দেশে থেকে টাকার লেনদেন করেন

  • অতীতে তাদের মাধ্যমে আরও কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে

  • লিবিয়ার দালালদের টাকা না দেওয়ার কারণে সেখানকার চক্র উত্তেজিত হয়ে হত্যা করে

ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকে দালাল পরিবারের সদস্যরা ঘরে তালা ঝুলিয়ে পলাতক


পরিবারগুলোর আর্তনাদ

ইমরানের পরিবার

ইমরানের মা, রেহেনা বেগম—
“আমার একটাই ছেলে। ৪০ লাখ টাকা দিয়েও তাকে বাঁচাতে পারলাম না… আমি দালালদের ফাঁসি চাই।”

বোন ফাতেমা আক্তার—
“ভাইকে নির্যাতন করা হয়েছে। আমরা সব জমিজমা বিক্রি করে টাকা দিয়েছি। এখন আমাদের আর কিছুই নেই। শিপন ও সেলিমের বিচার চাই।”

মুন্নার পরিবার

খালা খাদিজা আক্তার—
“৪০ লাখ টাকা দিয়েছি ধারদেনা করে। মরদেহ দেশে ফেরত আনার ব্যবস্থা চাই।”

বায়েজিতের পরিবার

বাবা কুদ্দুস শেখ—
“ছেলের এমন মৃত্যু মানতে পারছি না। দালাল প্রথমে কিছু স্বীকার করেনি। পরে লিবিয়া থেকে খবর আসে।”


দালালদের স্বজনদের বক্তব্য

শিপনের চাচি সেতারা বেগম বলেন—
“শিপন অনেককে ইতালি নিয়ে গেছে, কিন্তু কাউকে গুলি করে মারা হয়েছে—এই ঘটনা আগে শুনিনি।”


পুলিশের বক্তব্য

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেন—
“বিভিন্ন মাধ্যমে তিন যুবকের মৃত্যুসংবাদ পেয়েছি। পরিবারগুলো লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”