৭ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিপর্যস্ত ইসরায়েল: বাংকারে বন্দি লাখো মানুষ, নিহত ১৩

admin
প্রকাশিত ০৪ মার্চ, বুধবার, ২০২৬ ২২:৪৬:০৩
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিপর্যস্ত ইসরায়েল: বাংকারে বন্দি লাখো মানুষ, নিহত ১৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ৪ মার্চ, ২০২৬

ইরানের মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে চরম মানবিক সংকটে পড়েছে ইসরায়েলের সাধারণ নাগরিকরা। দেশজুড়ে সতর্কতা সংকেত ও সাইরেন বাজার সাথে সাথেই বাসিন্দারা ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ ও সুরক্ষিত আশ্রয়কেন্দ্রে (বাংকার) ভিড় করছেন। তেহরানের পাল্টা প্রতিশোধের ঘোষণার পর থেকে পুরো দেশ এখন এক চরম উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে সময় পার করছে।

প্রাণহানির পরিসংখ্যান

ইসরায়েলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সাম্প্রতিক এই হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৯ জন ইসরায়েলি নাগরিক এবং ৪ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। হামলাগুলো মূলত জনবহুল আবাসিক এলাকা ও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুগুলোতে আঘাত হানছে।

আবাসিক এলাকায় আঘাত

গত রোববার জেরুজালেমের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহরতলির বেইত শেমেসের একটি জনবহুল আবাসিক এলাকায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে অন্তত ৬ জন নিহত এবং কয়েক ডজন মানুষ আহত হন।

জেরুজালেমের বাসিন্দা রাব্বি স্টিভেন বার্গ এই হামলার ভয়াবহতা তুলে ধরে বলেন:

“জেরুজালেম যদি ম্যানহাটন হয়, তবে বেইত শেমেস হলো লং আইল্যান্ডের মতো শান্ত আবাসিক এলাকা। ক্ষেপণাস্ত্রটি ঠিক এমন জায়গায় পড়েছে যেখানে সাধারণ মানুষ থাকে এবং শিশুরা খেলাধুলা করে।”

আশ্রয় নেওয়ার সময় মাত্র ৬০ সেকেন্ড

ইসরায়েলের আধুনিক বাড়িগুলোতে সাধারণত শক্তিশালী ‘সেফ রুম’ থাকলেও সাইরেন বাজার পর নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য বাসিন্দারা মাত্র এক মিনিট বা ৬০ সেকেন্ড সময় পান। রাব্বি বার্গ জানান, বেইত শেমেসে নিহতদের মধ্যে দুজন আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পথে সময়মতো পৌঁছাতে না পেরে প্রাণ হারিয়েছেন।

বর্তমান পরিস্থিতি

বর্তমানে ইসরায়েলজুড়ে স্কুল-কলেজ এবং জনসমাগমস্থল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সাধারণ মানুষকে সব সময় আশ্রয়কেন্দ্রের কাছাকাছি থাকার কঠোর নির্দেশ দিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা বিভাগ। তেল আবিব থেকে শুরু করে পরদেস হান্না-কারকুর পর্যন্ত প্রতিটি শহরে এখন থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।