৭ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ভূরুঙ্গামারীতে খাদ্য অধিদপ্তরের সিলযুক্ত ২০ টন চাল জব্দ: গুদাম মালিকরা পলাতক

admin
প্রকাশিত ১৯ মার্চ, বৃহস্পতিবার, ২০২৬ ১৫:০২:২৮
ভূরুঙ্গামারীতে খাদ্য অধিদপ্তরের সিলযুক্ত ২০ টন চাল জব্দ: গুদাম মালিকরা পলাতক

নিজস্ব প্রতিবেদক | কুড়িগ্রাম বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নে তিনটি গুদাম থেকে খাদ্য অধিদপ্তরের লোগো-সংবলিত বিপুল পরিমাণ চাল জব্দ করেছে পুলিশ। বুধবার (১৮ মার্চ) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এসব চাল জব্দ করা হয়। জব্দকৃত চালের পরিমাণ অন্তত ২০ টন (প্রায় ৭০০-৮০০ বস্তা) হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অভিযান ও জব্দ

উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের পাশে কাশিম বাজারের স্থানীয় তিন ব্যবসায়ী—ছমের আলী, রবিউল ইসলাম ও সোনাউল্ল্যা মিয়ার গুদামঘর থেকে এসব চাল উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, গুদামগুলোতে ৩০ কেজি ওজনের সরকারি সিলমোহরযুক্ত বস্তার পাশাপাশি কিছু সিলবিহীন বস্তাতেও চাল মজুত করা ছিল। অভিযানের খবর পেয়ে অভিযুক্ত ব্যবসায়ীরা সটকে পড়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ ও ইউপি চেয়ারম্যানের বক্তব্য

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গরিব মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি ও ভিজিএফ-এর চাল উপকারভোগীদের না দিয়ে কালোবাজারে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা আলতাফ হোসেনের দাবি, ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা পাইকারদের কাছে এসব চাল বিক্রি করেছেন, যা পরবর্তীতে ব্যবসায়ীদের গুদামে মজুত করা হয়।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বলদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক বলেন, “ইউনিয়নে ৬৪ টন ৫৩০ কেজি ভিজিএফ চাল শতভাগ বিতরণ শেষ হয়েছে। এই জব্দকৃত চাল কোথা থেকে এসেছে, তা আমার জানা নেই।”

প্রশাসনের বক্তব্য

কুড়িগ্রামের সহকারী পুলিশ সুপার (ভূরুঙ্গামারী সার্কেল) মুনতাসির মামুন মুন জানান, চালগুলো বর্তমানে পুলিশি পাহারায় এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জিম্মায় রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, “সরকারি সিলযুক্ত বস্তায় এত বিপুল পরিমাণ চাল পাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।”

ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহাদাৎ হোসেন জানিয়েছেন, ঘটনা তদন্তে প্রতিনিধি পাঠানো হয়েছে। কোন প্রক্রিয়ায় সরকারি চাল ব্যবসায়ীদের গুদামে গেল, তা তদন্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।