১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

অধ্যাদেশ বাতিল: খোলাচিঠি দিয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সদস্যদের একযোগে পদত্যাগ

admin
প্রকাশিত ১৩ এপ্রিল, সোমবার, ২০২৬ ১৬:৪০:৫৫
অধ্যাদেশ বাতিল: খোলাচিঠি দিয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সদস্যদের একযোগে পদত্যাগ

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা তারিখ: ১৩ এপ্রিল, ২০২৬

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা সরকারের প্রতি খোলাচিঠি দিয়ে একযোগে পদত্যাগ করেছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ বাতিল করে সংসদে নতুন বিল পাস হওয়ার প্রেক্ষাপটে তাঁরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিদায়ী সদস্যরা মনে করছেন, যে আইনি কাঠামোর অধীনে তাঁরা নিয়োগ পেয়েছিলেন, সেটি বিলুপ্ত হওয়ায় পদে থাকা আর সমীচীন নয়।

খোলাচিঠিতে ভুক্তভোগীদের প্রতি দায়বদ্ধতা

পদত্যাগের পর এক খোলাচিঠিতে বিদায়ী পাঁচ কমিশনার তাঁদের অবস্থানের কথা স্পষ্ট করেছেন। চিঠিতে তাঁরা উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশগুলো সংসদে পাস না হওয়ায় ভুক্তভোগীরা তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। চিঠিতে বলা হয়:

“আমরা কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা ব্যক্তিস্বার্থে নয়, বরং ভুক্তভোগীদের প্রতি কর্তব্যবোধ থেকে আজ কলম হাতে নিয়েছি। আমাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার দরুন আমরা ভুক্তভোগীদের বেদনা ও আইনাঙ্গনের জটিলতার সঙ্গে পরিচিত।”

বিদায়ী সদস্যরা চিঠিতে সংসদে উপস্থাপিত ‘ভুল তথ্যের জবাব’, অধ্যাদেশগুলোর বিরুদ্ধে সরকারের আপত্তির প্রকৃত কারণ চিহ্নিতকরণ এবং ভবিষ্যৎ আইনের গুণগত মান বিচারের প্রস্তাব দিয়েছেন।

কেন এই পদত্যাগ?

গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল’ কণ্ঠভোটে পাস হয়। এই বিলের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে করা ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫’ বাতিল করে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের ২০০৯ সালের মূল আইনটি পুনরায় কার্যকর করা হয়।

বিদায়ী সদস্য নূর খান গণমাধ্যমকে বলেন, “সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের পদত্যাগ করতে বলা হয়নি। তবে একধরনের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। যেহেতু আমরা আগের অধ্যাদেশের ভিত্তিতে দায়িত্ব পেয়েছিলাম, এখন সেটি বহাল না থাকায় পদত্যাগ করাই সঠিক মনে করেছি।”

অন্যদিকে, কমিশনের সচিব কুদরত-এ-ইলাহী জানান, অধ্যাদেশটি বাতিল হওয়ায় আগের কমিশনটি আইনত আর বহাল নেই।

প্রেক্ষাপট ও ঘটনাক্রম

  • ৭ নভেম্বর ২০২৪: ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সরকার পরিবর্তনের পর তৎকালীন চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন আহমদসহ পুরো কমিশন পদত্যাগ করে। অভিযোগ ওঠে, তাঁদের ‘জোর করে’ পদত্যাগ করানো হয়েছিল।

  • ৩০ অক্টোবর ২০২৫: অন্তর্বর্তী সরকার নতুন অধ্যাদেশ অনুমোদন করে।

  • ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: নতুন অধ্যাদেশের আলোকে হাইকোর্টের সাবেক বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীকে চেয়ারম্যান এবং নূর খান, নাবিলা ইদ্রিসসহ পাঁচজনকে সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

  • ৯ এপ্রিল ২০২৬: সংসদে নতুন বিল পাসের মাধ্যমে ২০২৫ সালের অধ্যাদেশটি বাতিল হয় এবং ২০০৯ সালের আইন ফিরে আসে।

রাষ্ট্রপতির অনুমোদন সাপেক্ষে গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে এই নতুন বিলটি কার্যকর হবে। এর ফলে মানবাধিকার কমিশনের কাঠামো ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আবারও বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে।