
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১৬ এপ্রিল, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি নিরাপদ করতে এক জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে নেমেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি তেল পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে মাইন বা অন্য কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি হলে বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ধস নামার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, নৌসেনাদের সরাসরি ঝুঁকি কমাতে এই অভিযানে ড্রোন, বিস্ফোরকবাহী রোবট এবং হেলিকপ্টারের মতো উন্নত সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী ইতোমধ্যে দুটি যুদ্ধজাহাজ ওই প্রণালিতে পাঠিয়ে কার্যক্রম শুরু করেছে। আগামী দিনগুলোতে পানির নিচে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে সক্ষম ড্রোনও যুক্ত হবে বলে জানা গেছে।
মাইনের ধরণ ও হুমকি
বিভিন্ন গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ইরান এই কৌশলগত জলপথে অসংখ্য সামুদ্রিক মাইন স্থাপন করেছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মাইন অত্যন্ত স্বল্প খরচে তৈরি হলেও এর ঝুঁকি ও মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব ব্যাপক। বর্তমানে সেখানে কয়েক ধরণের মাইন থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে:
-
বটম মাইন: যা সমুদ্রতলে স্থির থাকে।
-
টেথার্ড মাইন: পানির ওপরে ভাসমান অবস্থায় শিকল দিয়ে আটকানো থাকে।
-
ড্রিফটিং মাইন: যা স্রোতের সাথে মুক্তভাবে ভেসে বেড়ায়।
-
লিম্পেট মাইন: যা সরাসরি জাহাজের গায়ে লেগে থাকে।
উন্নত ও নিরাপদ পদ্ধতি
অতীতের বিপজ্জনক পদ্ধতির পরিবর্তে এখন মার্কিন নৌবাহিনী আধুনিক ‘লিটোরাল কমব্যাট শিপ’ ব্যবহার করছে। এই পদ্ধতিতে একটি সন্দেহজনক বস্তু শনাক্ত করার পর সেটি দূরনিয়ন্ত্রিত অপারেটরদের জানানো হয়। এরপর ‘আর্চারফিশ’ নামক টর্পেডো আকৃতির যন্ত্র পাঠিয়ে লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়।
চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এই পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ। মাইন অপসারণকারী দলগুলো যেকোনো সময় সম্ভাব্য হামলার মুখে পড়তে পারে। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র আকাশপথে নজরদারি ড্রোন ও শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রেখেছে।
ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও উন্নত সেন্সর প্রযুক্তির মাধ্যমে এই প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত করার চেষ্টা চলছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি মাইনমুক্ত করা একটি দীর্ঘমেয়াদী চ্যালেঞ্জ, যা বিশ্ববাজারের অস্থিরতা বাড়িয়ে দিতে পারে।