১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ২০ শতাংশ বাড়তে পারে খাদ্য-অনিরাপত্তা: বিশ্বব্যাংকের সতর্কবার্তা

admin
প্রকাশিত ১৬ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার, ২০২৬ ২১:৪১:৩৯
মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ২০ শতাংশ বাড়তে পারে খাদ্য-অনিরাপত্তা: বিশ্বব্যাংকের সতর্কবার্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১৬ এপ্রিল, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত কেবল আঞ্চলিক অস্থিরতা নয়, বরং বিশ্বজুড়ে খাদ্যনিরাপত্তাকে এক ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ইন্দরমিত গিল। ওয়াশিংটনে আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের স্প্রিং মিটিংসের ফাঁকে এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই আশঙ্কার কথা জানান।

ইন্দরমিত গিল বলেন, সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাব যদি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, তবে বিশ্বের আরও কয়েক কোটি মানুষ নতুন করে খাদ্যসংকটে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

সংকটের মূল কারণসমূহ

বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদের মতে, এই সংকটের নেপথ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক কাজ করছে:

  • সার উৎপাদনে বিঘ্ন: হরমুজ প্রণালি ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। যেহেতু অধিকাংশ সার তেলভিত্তিক উপাদানের ওপর নির্ভরশীল, তাই তেলের সংকট সরাসরি সারের মূল্য বাড়িয়ে দিচ্ছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

  • রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা: পরিস্থিতি জটিল হলে অনেক দেশ নিজ দেশের খাদ্য মজুত নিশ্চিত করতে রপ্তানি সীমিত বা বন্ধ করে দিতে পারে। গিল বলেন, “রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা আমাদের জন্য এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়।”

  • মূল্যস্ফীতির চাপ: সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক গড় মূল্যস্ফীতি ৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪.৭ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের চিত্র

বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ৩০ কোটি মানুষ তীব্র খাদ্য-অনিরাপত্তায় ভুগছে। গিল সতর্ক করেন যে:

  1. সংঘাত অব্যাহত থাকলে এই সংখ্যা খুব দ্রুত ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।

  2. বর্তমানে এই সংকটের প্রভাব এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি দেখা গেলেও পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে তা দ্রুত আফ্রিকায় ছড়িয়ে পড়বে।

  3. দরিদ্র দেশগুলোর মানুষের ওপর উচ্চমূল্যের প্রভাব হবে সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক।

ভবিষ্যৎ প্রভাব

ইন্দরমিত গিল উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে বাজারে যে খাদ্য রয়েছে তা আগের উৎপাদিত। সংঘাতের প্রকৃত প্রভাব কয়েক মাস পর স্পষ্ট হবে যখন ব্যাহত উৎপাদনের ফল সামনে আসবে। দ্রুত এই সংকটের সমাধান না হলে বিশ্বজুড়ে ক্ষুধা ও দারিদ্র্য নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।