দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা অর্থ আত্মসাতের মামলায় মানিকগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রমজান আলীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করলে বিচারক এস কে এম তোফায়েল হাসান আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার প্রেক্ষাপট ও অভিযোগ
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০০৭ সালে রমজান আলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে পৃথক তিনটি মামলা করে দুদক। এর মধ্যে দুটি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন। মামলার প্রধান অভিযোগগুলো হলো:
মার্কেট নির্মাণে অনিয়ম: ১৯৯৮-৯৯ অর্থবছরে মানিকগঞ্জ পৌর সুপার মার্কেটের জমি ভরাটের কাজে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়াই বারবার কাজের পরিধি বাড়ানো হয়। এতে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশে পৌর তহবিল থেকে প্রায় ৪ লক্ষ ২২ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
ডোবা ভরাট প্রকল্প: ১৯৯৮ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত কাঁচাবাজার সংলগ্ন একটি ডোবা ভরাটের কাজেও প্রায় ৩ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এই দুই মামলায় রমজান আলীর পাশাপাশি ঠিকাদার ও জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন নেতা আমিরুল ইসলামকেও আসামি করা হয়। ২০০৮ সালে এ মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছিল দুদক।
আদালতের পর্যবেক্ষণ
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী দেওয়ান মিজানুর রহমান জানান, বিচারাধীন এই মামলাগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন রমজান আলী। ফলে গত ফেব্রুয়ারি মাসে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। সেই পরোয়ানার পরিপ্রেক্ষিতেই আজ তিনি আত্মসমর্পণ করেন।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী এ টি এম শাহজাহান দাবি করেন, রমজান আলী অসুস্থ থাকার কারণে এতদিন আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি। তারা দ্রুতই উচ্চ আদালতে জামিনের আবেদন করবেন বলে জানান।
রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়া
মানিকগঞ্জ পৌরসভার দীর্ঘকালীন মেয়র রমজান আলীকে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মামলার অপর আসামি আমিরুল ইসলাম বর্তমানে জামিনে থাকলেও সাবেক মেয়রের কারাবাস নিয়ে শহরজুড়ে চলছে নানা আলোচনা।
আদালত সূত্র জানিয়েছে, মামলাগুলোর পরবর্তী শুনানির তারিখ শীঘ্রই নির্ধারণ করা হবে।