ক্রীড়া প্রতিবেদক | ঢাকা ১৭ এপ্রিল, ২০২৬
পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের নায়ক নাহিদ রানা কি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নিজের ছন্দ হারিয়ে ফেলছেন? কিউই ব্যাটারদের বিরুদ্ধে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে রানার বোলিং ফিগার অন্তত সেই প্রশ্নই তুলছে। যাকে নিয়ে ম্যাচ শুরুর আগে খোদ নিউজিল্যান্ডের প্রধান কোচ রব ওয়াল্টার আলাদা পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন, সেই রানাই এখন সফরকারী ব্যাটারদের কাছে বেশ সহজ শিকারে পরিণত হয়েছেন।
গতির রাজা যখন লক্ষ্যবস্তু
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নাহিদ রানার আবির্ভাব ছিল ধূমকেতুর মতো। দুর্দান্ত গতি আর বাউন্সে ব্যাটারদের কুপোকাত করতে সিদ্ধহস্ত এই পেসার পাকিস্তান সুপার লিগেও (পিএসএল) নিজের সামর্থ্য দেখিয়েছেন। গত মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের সিরিজ জয়ে তিনি ছিলেন প্রধান কারিগর। তিন ম্যাচে ৮ উইকেট নিয়ে হয়েছিলেন সিরিজ সেরা। বিশেষ করে প্রথম ওয়ানডেতে ৫ উইকেট নিয়ে কিউইদের মনেও ভয়ের উদ্রেক করেছিলেন।
নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের মাঝে ব্যতিক্রম রানা
মিরপুরে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে টসে হেরে ব্যাট করতে নামা নিউজিল্যান্ডকে শুরু থেকেই চেপে ধরেছিলেন তাসকিন আহমেদ, শরীফুল ইসলাম ও রিশাদ হোসেনরা। তাঁদের হিসেবি বোলিংয়ে কিউইদের রান তোলার গতি ছিল ওভারপ্রতি সাড়ে চারের আশেপাশে। কিন্তু মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখা গেছে রানার ক্ষেত্রে। প্রথম স্পেলে এবং পরবর্তীতে ফিরে এসে নিজের করা প্রথম ৮ ওভারে ৬.৩৮ ইকোনমিতে ৫১ রান খরচ করেছেন তিনি। তাসকিন-শরীফুলরা যেখানে ব্যাটারদের হাত খোলার সুযোগ দেননি, সেখানে রানার বলগুলো কিউই ব্যাটাররা অনায়াসেই বাউন্ডারিতে পাঠিয়েছেন।
পরিকল্পনায় কি গলদ?
ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে রব ওয়াল্টার জানিয়েছিলেন, রানার গতি সামলাতে ব্যাটাররা বিশেষ অনুশীলন করেছেন। মাঠের পারফরম্যান্স বলছে, কিউইরা হোমওয়ার্ক সেরেই মাঠে নেমেছেন। রানার শর্ট লেংথ ও বাউন্সগুলোকে পুল কিংবা কাট শটের মাধ্যমে সফলভাবে মোকাবিলা করছেন টম ল্যাথাম-গ্লেন ফিলিপসরা। ৮ ওভার শেষেও উইকেটের ঝুলি শূন্য থাকায় চাপ বাড়ছে এই তরুণ পেসারের ওপর।
প্রত্যাশা ও বাস্তবতা
গত মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩ ম্যাচে ৮ উইকেট নেওয়া রানার কাছে স্বাগতিক সমর্থকদের প্রত্যাশা ছিল আকাশচুম্বী। তবে ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে লাইন-লেন্থের সামান্য বিচ্যুতি যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে, আজ সেটিই হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন রানা। তাসকিন-শরীফুলদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সুফল পেতে হলে রানাকে উইকেটের দেখা পেতে হবে এবং রান দেওয়ার গতিতে লাগাম টানতে হবে।
শেষ স্পেলে রানা কি পারবেন নিজের চেনা ছন্দে ফিরে কিউইদের ইনিংসে ধস নামাতে? নাকি গতির মোহে পড়ে আজ তিনি থেকে যাবেন উইকেটশূন্য—এখন সেটিই দেখার বিষয়।