
ফিচার ডেস্ক | ঢাকা ১৭ এপ্রিল, ২০২৬
শুনতে কিছুটা কৌতুকপূর্ণ মনে হলেও আজ ১৭ এপ্রিল বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে ‘ব্লা ব্লা ব্লা ডে’। প্রতিদিন আমরা মা-বাবা, বন্ধু বা শুভাকাঙ্ক্ষীদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শকে ‘ঘ্যানঘ্যানানি’ বা ‘ব্লা ব্লা ব্লা’ বলে উড়িয়ে দিই। মূলত অলসতা কাটিয়ে সেই অবহেলিত কাজগুলো শুরু করা এবং প্রিয়জনদের কথায় কান দেওয়ার লক্ষ্যেই ২০০৬ সালে রুথ এবং থমাস রয় নামের এক মার্কিন দম্পতি এই দিবসের সূচনা করেন।
শব্দের বিবর্তন ও ইতিহাস
‘ব্লা ব্লা’ শব্দটি শুনতে খুব আধুনিক মনে হলেও এর শেকড় অনেক গভীরে। ভাষাবিদদের মতে, প্রাচীন গ্রিসে যারা গ্রিক ভাষা পারতেন না, তাদের বিদ্রূপ করে বলা হতো ‘বার বার বার’। ১৯ শতকে এটি ‘ব্ল্যাব ব্ল্যাব’ এবং ১৯১৮ সালে আমেরিকান সাংবাদিক হাওয়ার্ড ভিনসেন্ট ও’ব্রায়ানের লেখায় প্রথম ‘ব্লা’ হিসেবে স্থান পায়। অবাক করা তথ্য হলো, গত ৪০ বছরে এই শব্দের ব্যবহার প্রায় ৫০ গুণ বেড়েছে।
যা করতে পারেন আজকের দিনে
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যেখানে আমরা অনেক কাজ ‘পরে করব’ বলে ফেলে রাখি, সেখানে আজকের দিনটি হতে পারে পরিবর্তনের শুরু:
-
অলসতা ত্যাগ: বছরের শুরুতে নেওয়া যে সংকল্পগুলো (রেজল্যুশন) এখনো শুরু করা হয়নি, আজই হোক সেগুলো শুরুর দিন।
-
পরামর্শে গুরুত্ব: মা-বাবার খাদ্যাভ্যাস বদলানোর তাগিদ কিংবা বন্ধুর দেওয়া বই পড়ার পরামর্শকে আজ আর ‘ব্লা ব্লা’ বলে এড়িয়ে না গিয়ে গুরুত্ব দিন।
-
মন খুলে আড্ডা: ডিজিটাল ডিভাইসে বন্দি না থেকে পুরোনো বন্ধুর সঙ্গে সামনাসামনি বা ফোনে কথা বলুন। এটি মানসিক অবসাদ কাটাতে ম্যাজিকের মতো কাজ করে।
আড্ডা নিয়ে কিছু চমকপ্রদ তথ্য
ব্রিটিশ মনোবিজ্ঞানী নিকোলাস এমলারের মতে, আমাদের দৈনন্দিন আড্ডার ৮০ শতাংশই কাটে অন্যের সমালোচনা বা গসিপ করে। এছাড়া মানুষ তার কথা বলার ৬০ শতাংশ সময় কেবল নিজের সম্পর্কেই বলতে পছন্দ করে। বিস্ময়কর বিষয় হলো, ইতিহাসের দ্রুততম বক্তা ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি, যিনি প্রতি মিনিটে ৩২৭টি শব্দ বলতে পারতেন। অন্যদিকে প্রায় ২৫ শতাংশ মানুষ জনসমক্ষে কথা বলতে ভয় পান, যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘গ্লোসোফোবিয়া’।
আড্ডার মনস্তাত্ত্বিক শক্তি
গবেষণা বলছে, মানুষের সঙ্গে ছোট ছোট আড্ডা মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায় এবং একাকিত্ব দূর করে। তাই আজ যখন কেউ আপনাকে কোনো পরামর্শ দিতে আসবে, বিরক্ত না হয়ে একটু মন দিয়ে শুনুন। হয়তো সেই তথাকথিত ‘ঘ্যানঘ্যানানি’র ভেতরেই লুকিয়ে আছে আপনার দীর্ঘদিনের কোনো সমস্যার সমাধান।
বছরের বাকি দিনগুলো না হয় এড়িয়েই গেলেন, আজকের দিনটি না হয় তোলা থাকুক প্রিয়জনদের কথা শোনা আর জমানো কাজগুলো শেষ করার জন্য।