১লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

নবীগঞ্জে খতনার পর ৩ শিশুর শারীরিক জটিলতা

admin
প্রকাশিত ৩১ আগস্ট, সোমবার, ২০২৬ ১৭:৪২:৩৭
নবীগঞ্জে খতনার পর ৩ শিশুর শারীরিক জটিলতা

নবীগঞ্জে খতনার পর ৩ শিশুর শারীরিক জটিলতা

চিকিৎসার নামে কী ঘটেছিল ইনাতগঞ্জের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে?

পল্লী চিকিৎসক, সেন্টারের মালিকসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ তদন্তে পুলিশ

নবীগঞ্জ প্রতিনিধি :: তিন সন্তানকে খতনা করাতে গিয়ে এখন দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার এক বাবা। ইনাতগঞ্জ বাজারের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে খতনা করানোর পর তার তিন শিশুর শারীরিক জটিলতা দেখা দিয়েছে—এমন অভিযোগে পল্লী চিকিৎসক, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক ও তার ছেলেসহ চারজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন মো. আকবর হোসেন।

ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৭ জুলাই ২০২৬ বিকেল ৪টার দিকে। অভিযোগকারীর দাবি, তার তিন ছেলে মাহিন আহমদ (১২), আদি আহমদ (১০) ও মাহিদ আহমদ (৮)-কে খতনা করানোর জন্য ইনাতগঞ্জ বাজারের গ্রীন লাইফ ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যান তিনি।

অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক মোজাহের রহমান, তার ছেলে ইমরান রহমান, পল্লী চিকিৎসক সৌরভ বর্মন এবং খতনাকারী বাপ্পি সরকার মিলে তিন শিশুর খতনা করেন।

খতনার পর থেকেই সমস্যা?

শিশুদের বাবা মো. আকবর হোসেনের অভিযোগ, খতনা সম্পন্ন হওয়ার পর থেকেই তার তিন সন্তানের শরীরে বিভিন্ন ধরনের জটিলতা দেখা দেয়। পরে তাদের চিকিৎসার প্রয়োজন হয় এবং বর্তমানে তারা অসুস্থ অবস্থায় রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে শিশুদের শারীরিক সমস্যার সুনির্দিষ্ট চিকিৎসাগত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। খতনা-পরবর্তী কোনো জটিলতা, প্রক্রিয়াগত ত্রুটি নাকি অন্য কোনো কারণে এসব সমস্যা হয়েছে—তা চিকিৎসা নথি ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মতামতের মাধ্যমে নির্ণয় করা প্রয়োজন।

প্রশ্ন উঠছে চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়েও

ঘটনাটি সামনে আসার পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ডায়াগনস্টিক সেন্টারে শিশুদের খতনা করার জন্য কী ধরনের ব্যবস্থা ছিল? সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এ ধরনের প্রক্রিয়া সম্পাদনের প্রয়োজনীয় যোগ্যতা বা প্রশিক্ষণ ছিল কি না? খতনার আগে শিশুদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছিল কি না? ব্যবহৃত সরঞ্জাম যথাযথভাবে জীবাণুমুক্ত করা হয়েছিল কি না? খতনার পর শিশুদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-পরামর্শ ও ফলোআপ দেওয়া হয়েছিল কি না?

এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাবার অভিযোগ—“বিশ্বাসের সুযোগ নেওয়া হয়েছে”

অভিযোগকারী মো. আকবর হোসেন বলেন, “আমার বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে তারা আমার অবুঝ তিন সন্তানের ওপর অপচিকিৎসা করেছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”

তার অভিযোগের ভিত্তিতে চারজনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ

অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে—

১. সৌরভ বর্মন (৩৫) — পিতা সুবাস বর্মন, ইনাতগঞ্জ বাজার।
২. মোজাহের রহমান (৪৫) — গ্রীন লাইফ ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক।
৩. ইমরান রহমান (১৬) — পিতা মোজাহের রহমান।
৪. বাপ্পি সরকার (৪৮) — পিতা অজ্ঞাত, ইনাতগঞ্জ বাজার।

অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্যও তদন্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

পুলিশের বক্তব্য

নবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ বলেন, “অভিযোগটি আমরা পেয়েছি। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

তদন্তে যেসব বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে

তিন শিশুর চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্র, খতনার আগে ও পরের শারীরিক অবস্থা, চিকিৎসকদের পরামর্শ, ব্যবহৃত সরঞ্জাম, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ ও যোগ্যতা এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন—এসব বিষয় তদন্তের আওতায় এলে প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হতে পারে।

শিশুদের শারীরিক জটিলতার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে চিকিৎসাগত মূল্যায়ন করাও গুরুত্বপূর্ণ।

অভিযোগটি বর্তমানে তদন্তাধীন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর অভিযোগের কোনো অংশ অসত্য প্রমাণিত হলে সেটিও তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়ার কথা।

তিন শিশুর চিকিৎসা ও নিরাপত্তার পাশাপাশি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।