১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কমিটি আড়াই মাসেও কোনো নীতিমালা বা কার্যকর পদ্ধতি নির্ধারণ করতে পারেনি

admin
প্রকাশিত ১৩ সেপ্টেম্বর, রবিবার, ২০২৬ ১০:২৪:০৪
কমিটি আড়াই মাসেও কোনো নীতিমালা বা কার্যকর পদ্ধতি নির্ধারণ করতে পারেনি

সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে গঠিত কমিটি আড়াই মাসেও কোনো নীতিমালা বা কার্যকর পদ্ধতি নির্ধারণ করতে পারেনি। কমিটি গঠনের সময় এক মাসের মধ্যে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার জন্য ‘যৌক্তিক ও সমন্বিত কাঠামো’ নির্ধারণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি।

এদিকে দীর্ঘদিনেও বিষয়টির সুরাহা না হওয়ায় মাজারের পরিচালনা ও আর্থিক কার্যক্রমে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মাজারের দৈনন্দিন খরচ মেটাতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

মাজারের দানবাক্সের টাকা ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিদায়ী জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের উদ্যোগ এবং এ নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৩ জুন মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক পরিচালনায় স্বচ্ছতা আনতে বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীরের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটি গঠনের সময় বলা হয়েছিল, এক মাসের মধ্যে মাজারের ব্যবস্থাপনার জন্য একটি যৌক্তিক ও সমন্বিত কাঠামোর সুপারিশ করা হবে। কিন্তু নির্ধারিত এক মাস পেরিয়ে আরও দেড় মাস পার হলেও এখন পর্যন্ত সেই কাঠামো চূড়ান্ত হয়নি।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাজারের দানবাক্সের অর্থ, আয়-ব্যয় এবং সার্বিক আর্থিক কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হবে—এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি কমিটি। ফলে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনায় বিভিন্ন ধরনের জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

মাজারের দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহ নিয়েও দেখা দিয়েছে সমস্যা। দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক ব্যবস্থাপনার একটি স্থায়ী ও স্বচ্ছ পদ্ধতি নির্ধারণ না হওয়ায় মাজার পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে কমিটির অন্যতম সদস্য ও সিলেট উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, ‘সবশেষ যে সভাটি হয়েছে, সেখানে বাণিজ্যমন্ত্রীসহ কমিটির সবাই উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু মাজারের মোতোয়াল্লি উপস্থিত ছিলেন না। আশা করছি, আগামী মিটিংয়েই এই বিষয়টি সমাধান হবে।’

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থাপনা শাহজালাল (রহ.) মাজারের বিপুল পরিমাণ দান ও আয়-ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য ও সমন্বিত আর্থিক ব্যবস্থাপনা কাঠামো চূড়ান্ত করার দাবি উঠেছে।

এখন সবার নজর কমিটির পরবর্তী বৈঠকের দিকে। ওই বৈঠকে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটে কি না, সেটিই দেখার বিষয়।