ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে তাসলিমা শারমিন :: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে অপহরণ ও দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার আসামিদের দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয়রা।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে সরাইল উপজেলার বাড়িউড়া বাজারসংলগ্ন ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সরাইল, নোয়াগাঁও ও বাড়িউড়ার সর্বস্তরের সচেতন নাগরিক ও সাধারণ জনগণ’-এর ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শত শত মানুষ অংশ নেন। এ সময় তাঁদের হাতে বিভিন্ন দাবি-সংবলিত প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন দেখা যায়।
কর্মসূচিতে বক্তারা মামলার পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। মহাসড়ক অবরোধের কারণে কিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে পুলিশ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৭ অক্টোবর রাতে সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের বাড়িউড়া গ্রামের একটি মাদ্রাসায় আয়োজিত ওয়াজ মাহফিলে যাওয়ার পথে ওই কিশোরী অপহরণ ও ধর্ষণের শিকার হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এজাহার অনুযায়ী, কয়েকজন ব্যক্তি তাকে জোরপূর্বক অটোরিকশায় তুলে নদীর তীরবর্তী একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে জাকির মিয়া, নাঈম ও সোহাগ মিয়ার বিরুদ্ধে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ সময় অন্য আসামিরাও ধর্ষণের চেষ্টা চালায় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার পর রাত আনুমানিক ১১টার দিকে কিশোরীকে বাড়িউড়া এলাকায় তার বাড়ির পাশে ফেলে রেখে যায় অভিযুক্তরা। এ বিষয়ে কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
পরবর্তী সময়ে কিশোরীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত ১৫ অক্টোবর তাকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর ১৭ অক্টোবর রাতে ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে সরাইল থানায় ছয়জনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।
মামলার ছয় আসামি, গ্রেপ্তার দুজন
মামলার এজাহার অনুযায়ী, অভিযুক্তরা হলেন—জাকির মিয়া, নাঈম, সোহাগ মিয়া, মোকলেছ মিয়া, আলামিন ওরফে জিকিরি এবং বাহার মিয়া। তাঁদের মধ্যে নাঈম ও বাহার মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। বাকি চারজন পলাতক রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্তদের কয়েকজন মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, শিশু ও কিশোরীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অপরাধের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দ্রুত বিচার জরুরি। তাঁরা পলাতক আসামিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় বিচার সম্পন্ন করার দাবি জানান। একই সঙ্গে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সামাজিক আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।
পুলিশের বক্তব্য সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়া জানান, মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় আসামি বাহার মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অপর আসামি নাঈমকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। তাঁদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে দ্রুত তদন্ত, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং আইনানুগ বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।