৫ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সংবাদ প্রকাশে সাংবাদিক ও গণমাধ্যম মালিকদের গ্রেপ্তারে লাগবে আদালতের পূর্বানুমতি

admin
প্রকাশিত ০৫ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার, ২০২৬ ১৮:০২:১৯
সংবাদ প্রকাশে সাংবাদিক ও গণমাধ্যম মালিকদের গ্রেপ্তারে লাগবে আদালতের পূর্বানুমতি

সাইবার সুরক্ষা আইন পুনর্বিন্যাসে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত, থাকছে না মোবাইল কোর্টের বিধান

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিক, সংবাদমাধ্যমের মালিক কিংবা গণমাধ্যমের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এখতিয়ারভুক্ত আদালতের পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক করার বিধান যুক্ত হতে যাচ্ছে ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এ। স্বাধীন সাংবাদিকতা, গণমাধ্যমের নিরাপত্তা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে প্রস্তাবিত আইনটির খসড়া নতুন করে পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

বুধবার ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সভাকক্ষে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এ বিষয়ে নীতিগত ঐকমত্য হয়। সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও নীতিনির্ধারকরা উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে প্রকাশিত মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাংবাদিক ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সুনির্দিষ্ট মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আইনের খসড়া পরিমার্জন করা হচ্ছে। নতুন আইনটি যেন কোনোভাবেই স্বাধীন সাংবাদিকতা কিংবা গণমাধ্যমকর্মীদের হয়রানির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত না হয়, সে বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, সংবাদ প্রকাশের কারণে কোনো সাংবাদিক বা গণমাধ্যমসংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। পাশাপাশি মানহানি, হেয় প্রতিপন্ন করা এবং সাইবার বুলিংয়ের বিষয়গুলো পৃথকভাবে চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব করা হয়েছে। মানহানির সংজ্ঞা ও শাস্তির বিধান দেশের প্রচলিত দণ্ডবিধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া গুজব ও অপতথ্যের সংজ্ঞা আরও স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যাতে আইনের অস্পষ্টতার সুযোগ নিয়ে কোনো ব্যক্তি, সাংবাদিক কিংবা গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানকে অযথা হয়রানি করা সম্ভব না হয়।

খসড়ায় মোবাইল কোর্টের কোনো বিধান না রাখার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে কোনো ডিজিটাল কনটেন্ট ব্লক বা অপসারণের আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর সুযোগ দেওয়া এবং কনটেন্ট অবমুক্তির আবেদন নিষ্পত্তিতে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রেও লিখিত নোটিশ প্রদান এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়টি খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব এসেছে। পাশাপাশি সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের নতুন সদস্যকাঠামোতে গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সভায় আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সমন্বয় জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়। বিশেষ করে মেটা ও জাতিসংঘসহ সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির বিশেষ উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত সভায় আইসিটি বিভাগের সচিব মামুনুর রশীদ ভূঞা এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, সাইবার অপরাধ ও অনলাইন হুমকি প্রতিরোধের পাশাপাশি নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং স্বাধীন গণমাধ্যমের সুরক্ষা নিশ্চিত করেই একটি সময়োপযোগী সাইবার সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করতে হবে।

সরকার জানিয়েছে, পরিমার্জিত আইনের খসড়া খুব শিগগিরই ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। এর মাধ্যমে সাধারণ নাগরিক, সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত গ্রহণ করা হবে।