প্রতারণার ফাঁদে প্রবাসী: তিন দফা চুক্তি, কোটি টাকার লেনদেন; ফিশারি থেকে উচ্ছেদ
প্রতারণার ফাঁদে প্রবাসী: তিন দফা চুক্তি, কোটি টাকার লেনদেন; ফিশারি থেকে উচ্ছেদ
admin
প্রকাশিত ০৫ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার, ২০২৬ ২০:০৩:৪৯
প্রতারণার ফাঁদে প্রবাসী: তিন দফা চুক্তি, কোটি টাকার লেনদেন; ফিশারি থেকে উচ্ছেদ
নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেটের জকিগঞ্জে ৭০ বিঘা আয়তনের পুকুর ও ডোবা ইজারা নেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রায় চার কোটি টাকা ক্ষতিসাধনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গিয়াস আহমেদ মজুমদারসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করে আদালতে মামলা করেছেন মো. তওফিক আহমদ চৌধুরী নামে এক ব্যক্তি।
গত ২০২৬ সালে জকিগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও আমলগ্রহণকারী আদালতে দায়ের করা সি.আর. মামলা নং-৮৪/২০২৬-এ দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৭, ৩২৩, ৩৭৯, ৩৮৫, ৩৮৬, ৪০৬, ৪২০, ৪২৭ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার বাদী মো. তওফিক আহমদ চৌধুরী সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার মেওয়া গ্রামের বাসিন্দা। মামলার এজাহারে তিনি অভিযোগ করেন, জকিগঞ্জের মহিদপুর মৌজায় ৭০ বিঘা জমির ছয়টি পুকুর ও ১০টি ডোবা মাছ চাষের জন্য গিয়াস আহমেদ মজুমদারের কাছ থেকে ইজারা নেন। ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর বার্ষিক ১৫ লাখ টাকা ভাড়ায় প্রথম চুক্তি সম্পাদিত হয়। এ সময় তিনি বিভিন্নভাবে ১৭ লাখ টাকা প্রদান করেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে পুকুরগুলোর দখল বুঝিয়ে না দিয়ে পরবর্তীতে নতুন চুক্তির শর্ত দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বাদীর দাবি, পরবর্তীতে ২০১৯ সালের ১ মার্চ বার্ষিক ১৩ লাখ টাকা ভাড়ায় সাত বছরের জন্য নতুন করে চুক্তি হয়। ওই চুক্তির পরও তাকে প্রায় ৭১ দিন পর, ১১ মে ২০১৯ তারিখে ফিশারির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এরপর তিনি পুকুরগুলোতে প্রায় ৯ লাখ টাকার মাছের পোনা ছাড়েন এবং মাছের খাবারসহ অন্যান্য খাতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেন।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, মাছ বিক্রির উপযুক্ত হলে বাদী তাঁর লোকজন নিয়ে ফিশারিতে যেতে চাইলে অন্য আসামিরা তাঁকে বাধা দেন। পরে প্রথম আসামির সঙ্গে যোগাযোগ করলে মাছ বিক্রি করতে হলে এক কোটি টাকা দিতে হবে, অন্যথায় নতুন করে চুক্তি করতে হবে বলে জানানো হয়। একপর্যায়ে ২০২১ সালের ২৪ মার্চ বার্ষিক ১০ লাখ টাকা ভাড়ায় আরও তিন বছরের জন্য নতুন চুক্তি সম্পাদন করা হয়। পরদিন ২৫ মার্চ নগদ ১০ লাখ টাকা প্রদান করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীর অভিযোগ, ২০২১ সালের ২৬ মার্চ সকাল ১০টার দিকে তিনি ফিশারিতে গেলে দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১৫ জন ব্যক্তি তাঁকে ও তাঁর লোকজনকে মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ফিশারি থেকে বের করে দেন। পরবর্তী সময়ে ২৬ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত রুই, কাতলা, মৃগেল, ঘাসকার্প ও তেলাপিয়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির আনুমানিক দুই কোটি টাকার মাছ লুট করে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাঁর কাছ থেকে আরও আট লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে বলেও মামলায় দাবি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে চুক্তির টাকা, মাছ চাষে বিনিয়োগ, মাছ লুট ও অন্যান্য আর্থিক ক্ষতি মিলিয়ে প্রায় চার কোটি টাকার ক্ষতিসাধন হয়েছে বলে বাদীর অভিযোগ।
মামলার তপশিলে ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন তারিখে নগদ ও ব্যাংক চেকের মাধ্যমে টাকা প্রদানের বিবরণ উল্লেখ করা হয়েছে। এসব লেনদেনের পক্ষে চেক ও অন্যান্য প্রমাণ রয়েছে বলে বাদী দাবি করেছেন।
বাদী আরও অভিযোগ করেন, স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেও কোনো সমাধান পাননি। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ২০ এপ্রিল প্রথম আসামির সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি পূর্বের লেনদেন ও চুক্তি অস্বীকার করেন এবং এক কোটি টাকা দাবি করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় গিয়াস আহমেদ মজুমদার, হিফজুর রহমান খান(খোকন) , ফজলুল হক তফাদার, মো. জিয়াউর রহমান ও জহুরুল হককে আসামি করা হয়েছে। এছাড়াও আলী আকবর, আব্দুর রহিম, আব্দুল গফুরকে এই অপরাধীদের সহযোগিতা করার অভিযোগ করেন। তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য ও আদালতের পরবর্তী আদেশ জানা যায়নি।
মামলার বাদী তাঁর অভিযোগের সমর্থনে একাধিক সাক্ষীর নাম উল্লেখ করেছেন। এখন মামলার তদন্ত ও আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারিত হবে।