জৈন্তাপুরের উন্নয়নে ডিসেম্বরের মধ্যে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে: শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী
জৈন্তাপুরের উন্নয়নে ডিসেম্বরের মধ্যে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে: শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী
admin
প্রকাশিত ২৫ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার, ২০২৬ ১৪:৪৮:২৬
জৈন্তাপুরের উন্নয়নে ডিসেম্বরের মধ্যে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে: শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী
শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, জৈন্তাপুর উপজেলার সার্বিক উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এ অঞ্চলের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখা যাবে। শিক্ষা, যোগাযোগ, পর্যটন, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে উন্নয়ন কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।
আজ (শুক্রবার) জৈন্তাপুর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (রাজস্ব) আওতায় বিভিন্ন সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, জৈন্তাপুরের বিপুল পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে রাস্তাঘাটসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতি সপ্তাহেই অসংখ্য মানুষ এ এলাকায় ভ্রমণে আসেন। পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে জৈন্তাপুরে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়বে। পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে। এ লক্ষ্যে ইউনিয়নগুলোর সঙ্গে শহরের যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, জৈন্তাপুর সরকারি বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সমস্যা ও শিক্ষকসংকটসহ অন্যান্য সমস্যা দ্রুত সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে বিদ্যালয়টির দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার চেষ্টা করা হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়ের সামনে ইভটিজিং ও বখাটেপনা কঠোরভাবে দমনে পুলিশ ও প্রশাসনকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের বিষয়ে অভিভাবকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান মন্ত্রী।
জৈন্তাপুর বাজারের উন্নয়ন প্রসঙ্গে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে বর্তমান বাজার ভেঙে আধুনিক চারতলা মার্কেট নির্মাণের কাজ শুরু হবে। বাজারটিকে সুশৃঙ্খল ও পরিচ্ছন্নভাবে গড়ে তোলার পাশাপাশি ক্রেতা-বিক্রেতাদের চলাচলের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। এ ছাড়া আগামী সপ্তাহে জৈন্তাপুর বাজার থেকে টিএনও অফিস পর্যন্ত সড়কের উন্নয়নকাজ শুরু হবে।
তিনি বলেন, রাস্তার পাশে ময়লা-আবর্জনা না রাখা, ড্রেনেজব্যবস্থা উন্নত করা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্বাচনসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে শিগগিরই জৈন্তাপুরের রোগীদের সিলেট সদর হাসপাতাল ও এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার জন্য একটি আধুনিক অ্যাম্বুলেন্স চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুনন্দা রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব নুমেরী জামান, গোয়াইনঘাট সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল নোমান, জৈন্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা, জৈন্তাপুর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আবদুর রশীদ ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল হাফিজসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় মন্ত্রী বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বরাদ্দ থেকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্কুল ব্যাগ ও ক্রীড়া সামগ্রী, জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসি, গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মধ্যে বাইসাইকেল, দরিদ্র ও দুস্থদের মধ্যে চেক, বর্জ্য পরিষ্কারের জন্য ভ্যান বিতরণ করেন। এর আগে তিনি জৈন্তাপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন এবং বিদ্যালয়ের সম্প্রসারিত চারতলা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।