১৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৩রা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
২৮শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

পতাকা উত্তোলনের পর আ,লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর–আগুন

admin
প্রকাশিত ১৬ ফেব্রুয়ারি, সোমবার, ২০২৬ ০০:১৯:১৭
পতাকা উত্তোলনের পর আ,লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর–আগুন

Manual4 Ad Code

পতাকা উত্তোলনের পর আ,লীগের কার্যালয়ে
ভাঙচুর–আগুন

বারুদ ডেস্ক :: গণঅভ্যুত্থানের পর দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের খুলনা মহানগর কার্যালয়ে উসকানিমূলক তৎপরতার ঘটনা ঘটেছে। আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে নেতাকর্মীরা জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন।

Manual5 Ad Code

 

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নগরীর লোয়ার যশোর রোডের শঙ্খ মার্কেট এলাকায় অবস্থিত আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানায়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মী কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে। এরপর তারা ও ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ মুজিবরের ছবিতে ফুলের মালা দেয় এবং ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেয়।

Manual8 Ad Code

 

এদিকে নেতাকর্মীদের আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে যাওয়ার ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে রাতে অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্ররা সেখানে যান। তারা কার্যালয়ের দরজা ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেন। ফায়ার সার্ভিস আসার আগেই আগুন নিভে যায়।

Manual2 Ad Code

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, সোনাডাঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক টি এম আরিফ হোসেন, সদর থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়েজুল হক রুবেল, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জাহাঙ্গীর হোসেন, জাকির হাসানসহ ১০-১২ জন নেতাকর্মী শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবিতে ফুলের মালা দিচ্ছেন। এ সময় ছোট একটি জাতীয় পতাকা ধরে কয়েকজন ছবি তোলেন।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খুলনা মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতা বলেন, কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা ছাড়াই আমরা সেখানে গেছি। বিকালে কার্যালয়ের ভাঙা তালা খুলে ওপরে উঠে পতাকা টাঙাই, ছবিতে ফুলের মালা ও স্লোগান দিয়ে আবার নিচে নেমে নতুন তালা লাগিয়ে চলে যাই। খুলনা সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, এত দিন একটি অবৈধ সরকার ছিল, মবের রাজত্ব চলছিল। আমাদেরও রাজনৈতিক অধিকার আছে। এখন একটি রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় এসেছে। আমরা মনে করছি, কার্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সে হিসেবেই আমাদের নেতাকর্মীরা আজ কার্যালয়ে গেছেন। আমাদের ওপর যে অবৈধ নিষেধাজ্ঞা ছিল, আমরা মনে করি নির্বাচিত সরকার একটি বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে আমাদের রাজনীতি করার সুযোগ দেবে। সব মিলিয়ে আমরা আশা করছি, শিগগিরই কার্যক্রম শুরু করতে পারব। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আহমদ হামিম রাহাত বলেন, নির্বাচন শেষ হওয়ার দুই দিনের মাথায় এমন ঘটনা আমাদের উদ্বিগ্ন করেছে। সংগঠনটি আদালতের নির্দেশে সাময়িক নিষিদ্ধ। সব ধরনের রাজনৈতিক তৎপরতা স্থগিত। সে সময় এই দু:সাহস দেখানোর পেছনে নিশ্চয়ই কারো ইন্ধন আছে।

 

Manual4 Ad Code

খুলনা সদর থানার ওসি মো. কবির হোসেন বলেন, রাতে তালা ভেঙে কার্যালয়ে প্রবেশ করে কয়েকজন ব্যক্তি। ঘটনাস্থলে প্রত্যক্ষদর্শী কাউকে পাওয়া যায়নি। আমরা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ যাচাই করে তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছি। রাতে ছাত্ররা সেখানে আগুন দেয়। ফায়ার সার্ভিস আসার আগেই আগুন নিভে যায়।