২২শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

পীরগঞ্জে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করলেন তারেক রহমান; দিলেন বিচারের প্রতিশ্রুতি

admin
প্রকাশিত ৩০ জানুয়ারি, শুক্রবার, ২০২৬ ২০:৫৪:৩৩
পীরগঞ্জে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করলেন তারেক রহমান; দিলেন বিচারের প্রতিশ্রুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক | রংপুর (পীরগঞ্জ) শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬

রংপুরের পীরগঞ্জে জুলাই বিপ্লবের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ শুক্রবার সন্ধ্যা ৫টা ৫০ মিনিটে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পীরগঞ্জের বাবনপুর গ্রামে শহীদ আবু সাঈদের বাড়িতে পৌঁছান তিনি।

সেখানে পৌঁছে তারেক রহমান সরাসরি আবু সাঈদের সমাধিস্থলে যান। তিনি কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে বিপ্লবের এই বীর শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।

পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ ও বিচারের অঙ্গীকার

কবর জিয়ারত শেষে তারেক রহমান আবু সাঈদের বাড়িতে প্রবেশ করেন এবং উঠানে বসে তাঁর বাবা মকবুল হোসেন, মা ও ভাই-বোনদের সঙ্গে একান্ত আলাপ করেন। প্রায় ১৭ মিনিটের এই আলাপচারিতায় আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন আবেগপ্লুত হয়ে তাঁর ছেলের হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার দাবি করেন।

মকবুল হোসেন বলেন, “আমি দাবি জানাইছি আমার ছেলের হত্যাকারীদের যেন কড়াকড়ি বিচার করা হয়। শুধু আমার ছেলে নয়, আন্দোলনে যারা শহীদ হইছেন এবং যারা পঙ্গু হয়ে অবহেলিত আছেন, তাদেরও যেন পাশে থাকা হয়।”

জবাবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁদের আশ্বস্ত করে বলেন, “যদি আগামীতে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় যেতে পারি, তবে আবু সাঈদসহ সকল হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার নিশ্চিত করা হবে।”

পীরগঞ্জে মেডিকেল ও কলকারখানার দাবি

আলাপকালে আবু সাঈদের পরিবার পীরগঞ্জের স্থানীয় উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের বিষয়টিও তারেক রহমানের কাছে তুলে ধরেন। মকবুল হোসেন পীরগঞ্জে একটি আধুনিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন এবং বেকারদের জন্য কলকারখানা নির্মাণের দাবি জানান। তিনি বলেন, এই এলাকার মানুষ কর্মসংস্থানের অভাবে অত্যন্ত অবহেলিত। তারেক রহমান এসব দাবি গুরুত্বের সাথে শোনেন এবং ক্ষমতায় গেলে তা বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন।

কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা

বিএনপি চেয়ারম্যানের এই সফরকে কেন্দ্র করে বাবনপুর গ্রাম ও আশপাশের এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবির পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিপুল সংখ্যক গোয়েন্দা সদস্য মোতায়েন ছিল। নেতা-কর্মীদের ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয় নিরাপত্তা বাহিনীকে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গুলিতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী আবু সাঈদ শাহাদাত বরণ করেন। তাঁর এই আত্মত্যাগ জুলাই বিপ্লবের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল এবং তিনি ছাত্র-জনতার আন্দোলনের অন্যতম প্রতীকে পরিণত হন।