১৯শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

পুলিশ কর্মকর্তাকে উদ্দেশ্য করে ছাত্রলীগ নেতার দেওয়া ফেসবুক স্ট্যাটাস

admin
প্রকাশিত ১৭ অক্টোবর, শনিবার, ২০২৬ ২২:১০:১৯
পুলিশ কর্মকর্তাকে উদ্দেশ্য করে ছাত্রলীগ নেতার দেওয়া ফেসবুক স্ট্যাটাস

হবিগঞ্জের মাধবপুরে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে উদ্দেশ্য করে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক আতাউস সামাদ বাবুর দেওয়া ফেসবুক স্ট্যাটাস ঘিরে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ‘পেনশন নিয়ে বাড়ি ফেরা হবে না’—এমন মন্তব্যসংবলিত স্ট্যাটাসে পুলিশ কর্মকর্তা এএসআই দেলোয়ার হোসেনের নাম উল্লেখ করেন তিনি।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দেওয়া ওই স্ট্যাটাসে আতাউস সামাদ বাবু দাবি করেন, তাঁকে গ্রেপ্তার করতে এএসআই দেলোয়ার হোসেন তাঁর বাড়িতে গিয়েছিলেন। তবে সে সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। পরে ছাত্রলীগ নেতা সিরাজ গ্রেপ্তার হন বলেও স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন তিনি।

স্ট্যাটাসে বাবু লেখেন, ‘দেলোয়ার সাহেবদের নাম-ঠিকানা আমরা রাখছি, কারণ তারাও পেনশন নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারবে না ইনশাআল্লাহ।’ তাঁর এমন বক্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা শুরু হয়।

তবে বাবুর অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন এএসআই দেলোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, ফেসবুকে তাঁর নাম উল্লেখ করে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তার কোনো ভিত্তি নেই। তিনি মাদকসংক্রান্ত একটি তদন্তের কাজে বাবুর গ্রামের পাশে গিয়েছিলেন। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাবু ফেসবুকে লেখালেখি করেছেন বলে তাঁর দাবি।

দেলোয়ার হোসেন আরও বলেন, নিজ দায়িত্ব ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার বাইরে ব্যক্তিগতভাবে তাঁদের কিছু করার সুযোগ নেই।

এ বিষয়ে মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি দেখবেন।

জানা গেছে, এএসআই দেলোয়ার হোসেন মাধবপুর থানাধীন কাশিমনগর পুলিশ ফাঁড়িতে দায়িত্ব পালন করছেন। ওয়ারেন্ট তামিলে ভালো কাজের জন্য তিনি হবিগঞ্জের পুলিশ সুপারের কাছ থেকে পুরস্কৃত হয়েছেন।

অন্যদিকে, আতাউস সামাদ বাবু মাধবপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক ছিলেন। এর আগে তিনি চৌমুহনী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পদপ্রার্থী হিসেবেও তাঁর নাম আলোচনায় এসেছিল।

এ বিষয়ে দক্ষিণ মাধবপুর উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ও যুবদল নেতা আনোয়ার হোসেন বেলাল বলেন, গণতন্ত্রে বাকস্বাধীনতা রয়েছে। তবে কারও বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা অন্যায়। তিনি চান, গণতন্ত্রের সঠিক চর্চা হোক এবং পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতারা নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করুন।

ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাস ও পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্য ঘিরে মাধবপুরে আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।