বিশ্বনাথে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে রেলী ও আলোচনা সভা
বিশ্বনাথে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে রেলী ও আলোচনা সভা
admin
প্রকাশিত ০৫ অক্টোবর, সোমবার, ২০২৬ ১৬:০৬:৩৭
বিশ্বনাথে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে র্যালি ও আলোচনা সভা
এস.পি.সেবু, বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি: সিলেটের বিশ্বনাথে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে র্যালি শেষে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সিহাব বিন আমিনের সভাপতিত্বে এবং মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল হামিদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. লুৎফুর রহমান, রামসুন্দর অগ্রগামী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল আজিজ, হাজী মফিজ আলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল হান্নান, শিক্ষক ফারুক আহমদ, আল-আজম স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক আব্দুল আহাদ, বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শিপন আহমদ, বৈরাগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুজ্জামান, নোয়ারাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণ কান্ত এবং মিছবাহুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আবুল কালাম আজাদসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টরা।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, শিক্ষক শুধু শ্রেণিকক্ষে পাঠদানকারী ব্যক্তি নন; তিনি একটি প্রজন্মের জ্ঞান, নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ, দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। একজন দক্ষ ও আদর্শ শিক্ষকই শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনের ভিত শক্ত করে গড়ে তুলতে পারেন।
তারা বলেন, ‘গুণী শিক্ষকই গড়ে তোলেন গুণী শিষ্য।’ তাই শিক্ষকদের যথাযথ মর্যাদা, পেশাগত স্বাধীনতা, প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি। পরিবর্তনশীল বিশ্বে প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষকদেরও নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পেশাগত উন্নয়নের সুযোগ দিতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, শিক্ষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। বিদ্যালয়ে সহায়ক কর্মপরিবেশ, পর্যাপ্ত শিক্ষা উপকরণ, আধুনিক প্রশিক্ষণ, ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা এবং সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা গেলে শিক্ষকরা আরও কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।
বিশ্ব শিক্ষক দিবসের প্রেক্ষাপট: জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো (UNESCO)-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হয়। ১৯৬৬ সালের ৫ অক্টোবর ILO ও UNESCO শিক্ষকদের অধিকার, দায়িত্ব, নিয়োগ, প্রশিক্ষণ, কর্মপরিবেশ ও পেশাগত মর্যাদা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ গ্রহণ করে। সেই সুপারিশের স্মরণে ১৯৯৪ সাল থেকে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হয়ে আসছে।
ইউনেস্কোর হিসাবে, বর্তমানে বিশ্বব্যাপী শিক্ষকের ঘাটতি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সংস্থাটির সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বে প্রায় ৪ কোটি ৪০ লাখ অতিরিক্ত শিক্ষক প্রয়োজন হবে। একই সঙ্গে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, পেশাগত উন্নয়ন, কর্মপরিবেশ ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
২০২৬ সালের বিশ্ব শিক্ষক দিবসটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এ বছর ১৯৬৬ সালের ILO/UNESCO Recommendation concerning the Status of Teachers-এর ৬০ বছর পূর্তি হচ্ছে। প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা, অভিবাসন ও বাস্তুচ্যুতির মতো নতুন বাস্তবতায় শিক্ষকতার পেশার মর্যাদা ও কর্মপরিবেশ নিয়ে নতুন করে ভাবার আহ্বান জানিয়েছে UNESCO।
বিশ্ব শিক্ষক দিবসের এবারের বৈশ্বিক প্রতিপাদ্য—“Standing with teachers: 60 years of protecting the profession, advancing its status and shaping our futures”—অর্থাৎ ‘শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ানো: পেশার সুরক্ষা, মর্যাদা উন্নয়ন এবং আমাদের ভবিষ্যৎ নির্মাণে ৬০ বছর’। এর মাধ্যমে শিক্ষক পেশার মর্যাদা রক্ষা ও উন্নয়নের পাশাপাশি নীতিনির্ধারণে শিক্ষকদের ভূমিকা ও মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
বিশ্বনাথের আলোচনা সভায়ও শিক্ষকদের মর্যাদা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা এবং শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে আসে।