৮ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ক্ষমতায় গেলে বিশ্বের সর্ববৃহৎ নারী বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার ঘোষণা জামায়াতের

admin
প্রকাশিত ২০ জানুয়ারি, মঙ্গলবার, ২০২৬ ২২:৪৭:১৫
ক্ষমতায় গেলে বিশ্বের সর্ববৃহৎ নারী বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার ঘোষণা জামায়াতের

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ এবং হোম ইকোনমিকস কলেজকে একীভূত করে বিশ্বের সর্ববৃহৎ নারী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা বড় কলেজগুলোকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করার পরিকল্পনাও প্রকাশ করেছে দলটি।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘পলিসি সামিট ২০২৬’-এ এই উচ্চাভিলাষী রূপরেখা তুলে ধরা হয়।

প্রধান চ্যালেঞ্জ এখন স্থিতিশীলতা: শফিকুর রহমান

সামিটে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “দেশ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ এখন শুধু টিকে থাকা নয়, বরং রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।” তিনি আক্ষেপ করে বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হলেও কর্মসংস্থানের মান কমেছে এবং শিক্ষিত তরুণ ও নারীরা সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতার শিকার হচ্ছেন। তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ বা জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেন।

জামায়াতের ‘ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ’ রূপরেখার মূল পয়েন্টগুলো:

শিক্ষা ও তরুণ প্রজন্ম:

  • ইডেন, বদরুন্নেসা ও হোম ইকোনমিকস কলেজ একীভূত করে বিশাল নারী বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন।

  • চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত ৫ লাখ গ্র্যাজুয়েটকে সর্বোচ্চ ২ বছর মাসিক ১০ হাজার টাকা সুদমুক্ত ঋণ।

  • প্রতি বছর ১০০ মেধাবীকে বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার জন্য বিশেষ সহায়তা।

  • ৫ বছরে ১ কোটি তরুণকে বাজারভিত্তিক প্রশিক্ষণ এবং ৫০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা।

অর্থনীতি ও কর কাঠামো:

  • দীর্ঘমেয়াদে আয়কর ১৯ শতাংশ এবং ভ্যাট ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা।

  • আগামী ৩ বছর শিল্প খাতে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির দাম না বাড়ানো।

  • বন্ধ কলকারখানা চালু করে ১০ শতাংশ মালিকানা শ্রমিকদের প্রদান।

  • ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকদের জন্য সুদমুক্ত ঋণ।

স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা:

  • ৬০ বছরের ঊর্ধ্বের বয়স্ক এবং ৫ বছরের নিচের শিশুদের বিনামূল্যে চিকিৎসা।

  • ৬৪ জেলায় ৬৪টি বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ।

  • স্মার্ট সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ডের মাধ্যমে এনআইডি, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা একীভূত করা।

আইসিটি ও রেমিট্যান্স:

  • ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ লাখ আইসিটি কর্মসংস্থান ও ৫০০ কোটি ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য।

  • প্রবাসী বিশেষজ্ঞদের দেশে ফিরিয়ে এনে ‘ইন্টেলেকচুয়াল রেমিট্যান্স’ কাজে লাগানো।

অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসন: অনুষ্ঠানে জামায়াতের নায়েবে আমির ড. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, “আমরা ক্ষমতায় গেলে শুধু দল থেকে নয়, বরং যোগ্যতাসম্পন্ন সকল বাংলাদেশিকে নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করব।”

উল্লেখ্য, এই সামিটে শাসন কাঠামো, অর্থনীতি, ব্যবসা, তরুণ প্রজন্ম, নারী উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্য খাতের জন্য মোট ছয়টি আলাদা সেশনে জামায়াতের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করা হয়।