চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থা: সচল থাকার দাবি চেয়ারম্যানের, কাজ বন্ধ বলছেন অংশীজনরা
চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থা: সচল থাকার দাবি চেয়ারম্যানের, কাজ বন্ধ বলছেন অংশীজনরা
admin
প্রকাশিত ০৮ ফেব্রুয়ারি, রবিবার, ২০২৬ ১৮:১৯:৩৬
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম | ০৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার উদ্যোগকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বন্দর এলাকা। বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান বন্দর সচল থাকার দাবি করলেও শিপিং এজেন্ট, বার্থ অপারেটর ও কাস্টমস এজেন্টরা জানিয়েছেন, বন্দরের সব ধরনের কার্যক্রম কার্যত বন্ধ রয়েছে।
চেয়ারম্যানের দাবি: কাজে ফিরেছেন শ্রমিকেরা
আজ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বন্দর ভবনের সামনে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বন্দর চেয়ারম্যান জানান, সকালে শ্রমিকদের সঙ্গে দুই ঘণ্টা ব্যাপী সফল বৈঠক হয়েছে এবং এরপর শ্রমিকেরা কাজে যোগ দিয়েছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “শ্রমিকদের কাজে কেউ বাধা দিলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বন্দর বর্তমানে পুরোপুরি সচল।”
নিজের অপসারণ সংক্রান্ত গুজবের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমি এইমাত্র মিটিং শেষ করে আসলাম। অপসারণ করা হলে আমার এখানে থাকার কথা নয়।”
মাঠপর্যায়ের চিত্র ভিন্ন: পণ্য খালাস ও সরবরাহ বন্ধ
চেয়ারম্যানের দাবির বিপরীতে ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছেন বন্দরের অংশীজনরা।
বহির্নোঙর: শিপ হ্যান্ডলিং ও বার্থ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান সরওয়ার হোসেন সাগর জানান, বহির্নোঙরে থাকা প্রায় ৮০টি মাদার ভেসেল থেকে পণ্য খালাস আজ সকাল থেকে বন্ধ রয়েছে।
ডিপো ও ট্রান্সপোর্ট: বিকডা মহাসচিব রুহুল আমিন সিকদার জানান, ডিপো থেকে বন্দরে কোনো পণ্য যাচ্ছে না এবং বন্দর থেকেও কোনো কনটেইনার ডিপোতে আসছে না। বর্তমানে ডিপোগুলোয় ১৩ হাজার ৪৮৩ টিইইউস কনটেইনার আটকে আছে।
ক্ষতিপূরণ দাবি: কাস্টমস এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের বন্দরবিষয়ক সম্পাদক রোকনুদ্দিন মাহমুদ জানান, ধর্মঘটের কারণে আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকেরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। তিনি এই সময়ের জন্য ‘পোর্ট রেন্ট’ বা বন্দর মাশুল মওকুফের দাবি জানান।
এনসিটি চুক্তি নিয়ে ব্যাখ্যা
ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে চেয়ারম্যান বলেন, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে দক্ষ অপারেটর প্রয়োজন। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো চুক্তি হবে না। বর্তমানে নেগোসিয়েশন চলছে, যা পরবর্তীতে কেবিনেট অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। চুক্তির আগেই অপতথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
এক নজরে বর্তমান পরিস্থিতি
খাত
বর্তমান অবস্থা
টার্মিনাল ইয়ার্ড
৪১ হাজারেরও বেশি কনটেইনার আটকে আছে।
বহির্নোঙর
৮০টি বড় জাহাজে পণ্য খালাস বন্ধ।
অফ-ডক (ডিপো)
প্রায় ১৪ হাজার কনটেইনার জট সৃষ্টি হয়েছে।
রপ্তানি কার্যক্রম
ডিপো থেকে বন্দরে পণ্য পাঠানো বন্ধ।
বন্দরের এই অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে দেশের সাপ্লাই চেইন ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।