মার্কিন হামলায় নিহত ৮৪ ইরানি নাবিকের মরদেহ ফেরত পাঠাচ্ছে শ্রীলঙ্কা
মার্কিন হামলায় নিহত ৮৪ ইরানি নাবিকের মরদেহ ফেরত পাঠাচ্ছে শ্রীলঙ্কা
admin
প্রকাশিত ১৩ মার্চ, শুক্রবার, ২০২৬ ১৯:৪৯:৪২
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১৩ মার্চ, ২০২৬
ভারত মহাসাগরে মার্কিন সাবমেরিনের টর্পেডো হামলায় বিধ্বস্ত ইরানি যুদ্ধজাহাজ ‘আইআরআইএস ডেনা’র ৮৪ জন নাবিকের মরদেহ অবশেষে ইরানে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে শ্রীলঙ্কা। আজ শুক্রবার শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
গত ৪ মার্চ আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার ৯ দিন পর আজ একটি বিশেষ বিমানে করে মরদেহগুলো তেহরানে পাঠানো হচ্ছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: মাঝসমুদ্রে টর্পেডো হামলা
গত ৪ মার্চ ইরানের ফ্রিগেট আইআরআইএস ডেনা ভারতের পূর্ব উপকূলীয় বন্দর থেকে ইরানের দিকে ফিরছিল। ভারত মহাসাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবস্থানকালে মার্কিন একটি সাবমেরিন থেকে জাহাজটি লক্ষ্য করে টর্পেডো ছোড়া হয়। হামলায় জাহাজটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে মাঝসমুদ্রে তলিয়ে যায়। জাহাজে থাকা ১৮০ জন নৌসদস্যের মধ্যে ৮৪ জন নিহত হন এবং বাকিরা নিখোঁজ বা আহত হন।
উদ্ধার অভিযান ও বর্তমান পরিস্থিতি
শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী সমুদ্র থেকে জীবিত ৩২ জন ইরানি নাবিককে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। বর্তমানে তারা শ্রীলঙ্কাতেই অবস্থান করছেন। আহতদের চিকিৎসার জন্য আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির (আইসিআরসি) সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে।
মুখপাত্র তুষারা রদ্রিগো বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান:
“ইরান থেকে পাঠানো একটি চার্টার্ড বিমানে করে আজ মরদেহগুলো ফেরত পাঠানো হবে। উদ্ধারকৃত নাবিকরা আপাতত শ্রীলঙ্কার নিরাপত্তায় থাকবেন।”
নিরাপদ আশ্রয়ে ইরানের অন্য জাহাজগুলো
হামলার পর ইরানের দ্বিতীয় যুদ্ধজাহাজ আইআরআইএস বুশেহরকে মানবিক কারণে নিজেদের জলসীমায় প্রবেশের অনুমতি দেয় শ্রীলঙ্কা। বর্তমানে ২১৯ জন ক্রুসহ জাহাজটি শ্রীলঙ্কার আশ্রয়ে রয়েছে এবং এর বিকল ইঞ্জিন মেরামতের চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে, ইরানের আরও একটি জাহাজ ভারতের কোচি বন্দরে নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছে। জাহাজটির ১৮৩ জন ক্রু বর্তমানে ভারত সরকারের হেফাজতে রয়েছেন। কলম্বো ও নয়াদিল্লি উভয় পক্ষই জানিয়েছে, ‘মানবিক কারণে’ তারা ইরানি নাবিকদের আশ্রয় দিয়েছে যাতে তারা পরবর্তী কোনো মার্কিন হামলার শিকার না হন।
কূটনৈতিক অবস্থান
বর্তমানে শ্রীলঙ্কায় সব মিলিয়ে ২৫১ জন ইরানি নাবিক অবস্থান করছেন। শ্রীলঙ্কা সরকার জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত এবং আশ্রয় নেওয়া নাবিকদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা শুরু হয়নি। তবে আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী তাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও মর্যাদা প্রদান করা হবে।