৭ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কক্সবাজার সৈকতে উচ্ছেদ অভিযান: চার শতাধিক অবৈধ দোকান গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন

admin
প্রকাশিত ১৫ মার্চ, রবিবার, ২০২৬ ২০:০২:৫৬
কক্সবাজার সৈকতে উচ্ছেদ অভিযান: চার শতাধিক অবৈধ দোকান গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার | ১৫ মার্চ, ২০২৬

পর্যটন নগরী কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টের বালিয়াড়িতে গড়ে ওঠা চার শতাধিক ঝুপড়ি দোকান ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে জেলা প্রশাসন। আজ রোববার (১৫ মার্চ) দিনব্যাপী এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনজু বিন আফনান।

অভিযানের প্রেক্ষাপট

গত ৯ মার্চ জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ কক্সবাজার সৈকতের সব অবৈধ স্থাপনা এক সপ্তাহের মধ্যে উচ্ছেদের কঠোর নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার থেকে এই উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হয়। আজ রোববার সুগন্ধা পয়েন্টে বড় আকারের অভিযান চালানো হয়। এছাড়া সৈকতের লাবণী, কলাতলী, হিমছড়ি ও ইনানী পয়েন্টে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়েছে।

দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও পরিবেশগত প্রভাব

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজারের সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ করিম জানান, গত ১৫-১৬ বছর ধরে সৈকতের বালিয়াড়িতে ঝুপড়ি দোকান বসিয়ে একে একটি বস্তিতে পরিণত করা হয়েছিল। এর ফলে পর্যটকদের হাঁটাচলা করাও কঠিন হয়ে পড়েছিল। তিনি বলেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই উদ্যোগ বিশ্বের দীর্ঘতম সৈকতের সৌন্দর্য রক্ষায় অত্যন্ত প্রশংসনীয়।”

কার্ড ব্যবসার অভিযোগ ও প্রশাসনের অবস্থান

সৈকতের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, তারা জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে ব্যবসা করছেন। তবে জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “জেলা প্রশাসন থেকে সৈকতের বালিয়াড়িতে স্থায়ীভাবে বসার জন্য কোনো কার্ড দেওয়া হয়নি। যে কার্ডগুলোর কথা বলা হচ্ছে, তা ছিল কেবল ভ্রাম্যমাণ ব্যবসার জন্য।”

অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর একটি অসাধু চক্র সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে অবৈধ স্থাপনা তৈরি করে এবং তৎকালীন জেলা প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে কার্ডের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেয়।

পুনর্বাসনের আশ্বাস

উচ্ছেদের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হকারদের বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সাথে পরামর্শ করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

সৈকতের পরিবেশ রক্ষা ও পর্যটনবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।