২৬শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বড়পুকুরিয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ: উত্তরাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের শঙ্কা

admin
প্রকাশিত ২৫ এপ্রিল, শনিবার, ২০২৬ ২০:১০:২৬
বড়পুকুরিয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ: উত্তরাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের শঙ্কা

দিনাজপুর প্রতিনিধি | ২৫ এপ্রিল, ২০২৬

দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের শেষ সচল ইউনিটটিও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। চালু হওয়ার মাত্র ১৫ ঘণ্টার মাথায় শনিবার (২৫ এপ্রিল) বেলা ১১টায় ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এক নম্বর ইউনিটটি পুনরায় বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটির উৎপাদন বর্তমানে সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রয়েছে।

কেন বারবার বন্ধ হচ্ছে?

বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্র জানায়, গত ২২ এপ্রিল কয়লার সঙ্গে বড় বড় পাথর চলে আসায় বয়লারের টিউব ফেটে এক নম্বর ইউনিটটি প্রথম দফায় বন্ধ হয়েছিল। প্রয়োজনীয় মেরামত শেষে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাত ৮টায় ইউনিটটি চালু করা হয়। কিন্তু রাত ৩টার দিকে আবারও যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দেয়। সবশেষে আজ বেলা ১১টায় বয়লারের টিউব পুনরায় ফেটে গেলে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।

মেরামতে লাগবে ৫-৬ দিন

বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “বয়লারের টিউব ফেটে যাওয়ায় উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে। বয়লারের বাষ্প স্বাভাবিকভাবে ঠান্ডা হতে কিছুটা সময় লাগবে। এরপর মেরামতের কাজ শুরু হবে, যা সম্পন্ন করতে ৫ থেকে ৬ দিন সময় লাগতে পারে।”

উত্তরাঞ্চলে বিদ্যুৎ-বিভ্রাট

বর্তমানে কেন্দ্রটির তিনটি ইউনিটের একটিও সচল নেই। এর আগে থেকেই অন্য দুটি ইউনিট যান্ত্রিক ত্রুটি ও সংস্কার কাজের জন্য বন্ধ ছিল। কেন্দ্রটি থেকে ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হতো। হঠাৎ উৎপাদন বন্ধ হওয়ায় দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলের আট জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে এবং লোডশেডিংয়ের তীব্রতা বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এক নজরে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র

  • প্রতিষ্ঠা: ২০০৬ সালে দুটি ইউনিট নিয়ে যাত্রা শুরু।

  • উৎপাদন ক্ষমতা: ৫২৫ মেগাওয়াট (১২৫+১২৫+২৭৫)।

  • বর্তমান অবস্থা: তিনটি ইউনিটই বন্ধ।

  • মূল সমস্যা: বয়লারের টিউব ফেটে যাওয়া এবং কয়লার গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন।

উল্লেখ্য, বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির উৎপাদিত কয়লা ব্যবহারের লক্ষ্য নিয়ে এই কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠিত হলেও নানা সময়ে যান্ত্রিক জটিলতায় এটি পূর্ণ ক্ষমতায় উৎপাদন সচল রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।