২৪শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

১১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিকায়ন করা হলেও অব্যবস্থাপনায় টার্মিনালটি নষ্ট হচ্ছে

admin
প্রকাশিত ২৩ আগস্ট, রবিবার, ২০২৬ ০১:৫৮:১৩
১১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিকায়ন করা হলেও অব্যবস্থাপনায় টার্মিনালটি নষ্ট হচ্ছে

১১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিকায়ন করা হলেও অব্যবস্থাপনায় টার্মিনালটি নষ্ট হচ্ছে

 

সিলেট নগরীর প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত কদমতলী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াতে এই টার্মিনাল ব্যবহার করেন অসংখ্য মানুষ। যাত্রীদের স্বস্তিদায়ক যাতায়াত নিশ্চিতে প্রায় ১১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিকায়ন করা হলেও অব্যবস্থাপনায় টার্মিনালটি এখন জৌলুস হারাতে বসেছে।

টার্মিনালের বাইরে মূল সড়কে এলোপাতাড়িভাবে রাখা হচ্ছে শত শত বাস। এতে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। আধুনিক লাউঞ্জগুলোর ফ্যান-লাইট নষ্ট, চেয়ার ভাঙা এবং ভেতরে জমেছে ধুলোবালি ও ময়লা-আবর্জনা। ফলে যাত্রীরা লাউঞ্জে বসে বাসের অপেক্ষা না করে বাইরে অবস্থান করছেন। পাশাপাশি লাউঞ্জে মাদকসেবী ও ভবঘুরেদের উৎপাতও বেড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে ইজারার শর্ত লঙ্ঘন করে টার্মিনাল এলাকায় অতিরিক্ত বাস কাউন্টার, দোকানপাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে ইজারাদারের বিরুদ্ধে। এতে বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক টার্মিনাল থাকার পরও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রী ও নগরবাসীকে।

সূত্র জানায়, ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে প্রায় ৮ একর জায়গার ওপর সিলেটের ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে টার্মিনালটি সংস্কার করা হয়। সংস্কারের পর এটি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সুন্দর বাস টার্মিনাল হিসেবে পরিচিতি পায়। তবে নির্মাণ শেষ হওয়ার পরপরই ভবনে ফাটল দেখা দিলে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) তদন্তের পর তা সংস্কার করা হয়।

চলতি বছরের জুলাই থেকে এক বছরের জন্য টার্মিনালটি ইজারা দেওয়া হয়েছে। সিসিকের প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আলী আকবর জানান, ইজারার শর্ত অনুযায়ী টার্মিনালে নতুন কোনো অবকাঠামো, দোকান বা কাউন্টার নির্মাণের সুযোগ নেই। একই সঙ্গে লাউঞ্জ ও পুরো টার্মিনাল পরিষ্কার রাখা, এলোমেলোভাবে বাস না দাঁড় করানো এবং শিডিউল মেনে বাস প্রবেশ করানোর শর্ত রয়েছে।

তবে এসব শর্ত লঙ্ঘনের কথা স্বীকার করে প্রধান প্রকৌশলী বলেন, টার্মিনাল রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ইজারাদারের। তিনি দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন না করায় বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ অব্যবস্থাপনায় সিটি করপোরেশনেরও দায় রয়েছে বলে জানান তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে ইজারাদার মিজানুল ইসলাম রাতুলের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।