নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেটে চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ ও একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে ‘ট্যাটো’ সুমন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। স্থানীয়ভাবে তিনি ‘ট্যাটো বাহিনী’র প্রধান হিসেবে পরিচিত বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি সিলেট থেকে এক র্যাব সদস্যকে অপহরণ করে মারধরের পর হরিপুর এলাকায় ফেলে যাওয়ার ঘটনাতেও তার নাম আলোচনায় এসেছে।
অভিযোগ রয়েছে, র্যাব সদস্যকে মারধর করে হরিপুরে ফেলে যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিলে পরিস্থিতি বুঝে কৌশলে সেখান থেকে সরে যায় ট্যাটো সুমন ও তার সহযোগীরা। তবে এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তার সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত করা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, সিলেট নগরের উপশহর এলাকায় বসবাসকারী ট্যাটো সুমন নিজেকে ছাত্রদলের নেতা হিসেবে পরিচয় দেন। সাম্প্রতিক সময়ে সিলেট বাইপাস এলাকায় চোরাচালানের একটি অংশ নিয়ন্ত্রণে তার একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, পুলিশ কিংবা র্যাব চোরাচালানের কোনো গাড়ি আটক করলে সেখানে দ্রুত ট্যাটো সুমন ও তার সহযোগীরা উপস্থিত হন। শাহপরান বাইপাস এলাকায় সন্ধ্যার পর একাধিক গাড়ি নিয়ে তার সহযোগীদের ঘোরাফেরা করতে দেখা যায় বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ।
আরও অভিযোগ রয়েছে, চোরাচালানের পণ্য বহনকারী গাড়িগুলোকে বিভিন্নভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয় এবং কথিত চাঁদা না দিলে সেগুলো নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে না। এ নিয়ে বাইপাস এলাকার ব্যবসায়ী ও পরিবহনসংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।
তবে ট্যাটো সুমনের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তার বক্তব্যও এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত ও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টির প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।
চোরাচালান, অপহরণ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যকে মারধরের মতো গুরুতর অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।