১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

হাকালুকি হাওরের মিঠাপানিতে জেলেদের জালে ধরা পড়ছে রুপালি ইলিশ

admin
প্রকাশিত ১৩ সেপ্টেম্বর, রবিবার, ২০২৬ ১৭:০৭:৩৮
হাকালুকি হাওরের মিঠাপানিতে জেলেদের জালে ধরা পড়ছে রুপালি ইলিশ

হাকালুকি হাওরের মিঠাপানিতে জেলেদের জালে ধরা পড়ছে রুপালি ইলিশ

 

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার হাকালুকি হাওরের মিঠাপানিতে জেলেদের জালে ধরা পড়ছে রুপালি ইলিশ। আকারে ছোট হলেও হাওরের পানিতে ইলিশের উপস্থিতিতে উচ্ছ্বসিত স্থানীয় জেলেরা। তাদের দাবি, কয়েক দিন ধরে অনেকের জালেই ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ধরা পড়ছে।

সম্প্রতি কুলাউড়া উপজেলার আছুরিঘাট এলাকায় হাকালুকি হাওরে গিয়ে জেলেদের জালে ধরা ইলিশের দেখা মেলে। কুলাউড়া-বড়লেখা-চাঁদগ্রাম সড়কের পাশে হাওর থেকে ধরা মাছ নিয়ে বসেছিলেন স্থানীয় কয়েকজন জেলে। তাদের ঝুড়িতে শোল, টেংরা, কইসহ বিভিন্ন দেশি মাছের পাশাপাশি নজর কাড়ছিল কয়েকটি ইলিশ।

ভুকশিমইল ইউনিয়নের জেলে রাহুল মিয়া, মো. ওমর আলী, সুফিয়ান আহমদ, জমির মিয়া ও আহাদ মিয়া জানান, কয়েকজন মিলে হাওরে বেড়জাল দিয়ে মাছ ধরছিলেন। প্রথমবার জাল টানার পর সব মাছ না ওঠায় পরবর্তী সময়ে আরও চার-পাঁচবার জাল ফেলেন তারা। এ সময় জালে কয়েকটি ইলিশ ধরা পড়ে।

জেলেরা জানান, গত কয়েক দিন ধরে একইভাবে অন্য জেলেদের জালেও ইলিশ ধরা পড়ছে। ধরা পড়া ইলিশগুলোর বেশির ভাগের ওজন ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রামের মধ্যে। মিঠাপানির হাওরে ইলিশ পাওয়াকে তারা আনন্দের বিষয় হিসেবে দেখছেন। একই সঙ্গে এ বছর হাওরে অন্যান্য দেশি মাছের পরিমাণও বাড়বে বলে আশা করছেন তারা।

কুলাউড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু মাসুদ বলেন, হাকালুকি হাওরের সঙ্গে মেঘনা ও কুশিয়ারা নদীর সংযোগ রয়েছে। সাধারণত প্রতিবছর হাওরে দুই থেকে চারটি ছোট আকারের ইলিশ ধরা পড়ে। তবে এবার তুলনামূলকভাবে বেশি ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। ২৫০ থেকে ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশও ধরা পড়ছে।

নদীর সঙ্গে হাওরের সংযোগ

মৎস্য কর্মকর্তাদের মতে, হাকালুকি হাওরের সঙ্গে নদীর সরাসরি সংযোগ থাকায় নদী থেকে ইলিশের হাওরে প্রবেশের সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বর্ষায় পানির প্রবাহ ও স্রোতের পরিবর্তনের সঙ্গে মাছের চলাচলও বেড়ে যায়।

মৎস্য কর্মকর্তা আবু মাসুদ বলেন, আগাম বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের সময় হাকালুকি হাওরের পানি কুশিয়ারা নদী হয়ে পদ্মার দিকে প্রবাহিত হয়। পানির এই প্রবাহের কারণে ইলিশও স্রোতের বিপরীতে চলাচল করে। এভাবেই কিছু ইলিশ হাওরে প্রবেশ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, হাওরের পরিবেশ ও পানির প্রবাহ অনুকূলে থাকলে আগামী কয়েক বছরে হাকালুকি হাওরে ইলিশের উপস্থিতি আরও বাড়তে পারে।

প্রায় ১৮ হাজার ১১৫ হেক্টর আয়তনের হাকালুকি হাওর মৌলভীবাজারের কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা এবং সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও গোলাপগঞ্জ উপজেলা নিয়ে বিস্তৃত। দেশের বৃহত্তম এই হাওর একসময় দেশি মাছের অন্যতম সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত ছিল।

এর আগেও হাকালুকি হাওরে ইলিশ ধরা পড়েছে। ২০১৬, ২০১৯ ও ২০২২ সালে হাওরে তুলনামূলকভাবে বেশি ইলিশ পাওয়ার খবর পাওয়া যায়। তবে স্থানীয় জেলে ও মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এবার আগের কয়েক বছরের তুলনায় হাকালুকি হাওরে ইলিশ ধরা পড়ার হার বেশি।