৮ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

গৃহবধূ রেহেনা খাতুন অবশেষে দেশে ফিরছেন

admin
প্রকাশিত ০৭ অক্টোবর, বুধবার, ২০২৬ ১৮:৩০:৩৪
গৃহবধূ রেহেনা খাতুন অবশেষে দেশে ফিরছেন

সৌদি আরবে গৃহকর্মীর কাজে গিয়ে নির্যাতনের শিকার ও ‘বিক্রি’ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ তোলা হবিগঞ্জের মাধবপুরের গৃহবধূ রেহেনা খাতুন অবশেষে দেশে ফিরছেন। সরকারের হস্তক্ষেপ ও গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর তাঁকে উদ্ধার করে বাংলাদেশ দূতাবাসের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার তিনি দেশে পৌঁছাবেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সি।

রেহেনা খাতুন মাধবপুর উপজেলার ২ নম্বর চৌমুহনী ইউনিয়নের কমলপুর গ্রামের বাসিন্দা। প্রায় দুই মাস আগে গৃহকর্মীর ভিসায় সৌদি আরবের জেদ্দায় যান তিনি। সেখানে যাওয়ার পর থেকেই তাঁর ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন রেহেনা। তাঁকে পর্যাপ্ত খাবার না দেওয়া, অতিরিক্ত কাজ করানো এবং বেতন-ভাতা না দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করতে তাঁর ইন্টারনেট সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয় বলে জানান রেহেনা।

পরে এক ভিডিও বার্তায় দেশে ফেরার আকুতি জানিয়ে রেহেনা অভিযোগ করেন, দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলে সৌদির একটি এজেন্সি তাঁর কাছে সাড়ে তিন লাখ টাকা দাবি করেছে। তাঁকে ‘বিক্রি’ করে দেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয় বলে ভিডিওতে দাবি করেন তিনি।

ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি গণমাধ্যমে এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি সরকারের নজরে আসে। স্ত্রীকে উদ্ধারের জন্য রেহেনার স্বামী আলী আহমদ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন করেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৪ অক্টোবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে চিঠি পাঠায়। পরদিন ৫ অক্টোবর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপে সৌদি সরকারের সহযোগিতায় রেহেনাকে উদ্ধার করে বাংলাদেশ দূতাবাসের হেফাজতে নেওয়া হয়।

ঢাকার ফকিরাপুলের রিক্রুটিং এজেন্সি ‘জেনিয়া ওভারসিস’-এর কর্মকর্তা হাসান মিয়া জানান, রেহেনার দেশে ফেরার সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। তাঁর বিমানের টিকিটও কেনা হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে তিনি বাংলাদেশে পৌঁছাবেন।

রেহেনাকে উদ্ধারের খবরে তাঁর পরিবারে স্বস্তি ফিরলেও পাওনা বেতন নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে। রেহেনার স্বামী আলী আহমদ বলেন, তাঁর স্ত্রীকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়ায় তিনি সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞ। তবে রেহেনার কষ্টার্জিত বকেয়া বেতন এখনো পরিশোধ করা হয়নি।

তিনি রেহেনার পাওনা বেতন আদায় এবং তাঁকে বিদেশে পাঠানোর নামে প্রতারণার সঙ্গে জড়িত দালাল চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।