চিকিৎসার নামে ‘কসাইখানা’: সিলেটে বেসরকারি ক্লিনিকগুলোর দৌরাত্ম্যে দিশেহারা রোগীরা
চিকিৎসার নামে ‘কসাইখানা’: সিলেটে বেসরকারি ক্লিনিকগুলোর দৌরাত্ম্যে দিশেহারা রোগীরা
admin
প্রকাশিত ১৩ জুন, শনিবার, ২০২৬ ২৩:২৬:৩৯
চিকিৎসার নামে ‘কসাইখানা’: সিলেটে বেসরকারি ক্লিনিকগুলোর দৌরাত্ম্যে দিশেহারা রোগীরা
মোঃ আবুল বশর সিলেট: সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল যখন হাজারো সীমাবদ্ধতার মধ্যেও দিনরাত হাজার হাজার মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে, ঠিক তখনই এর বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে সিলেটের অধিকাংশ বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে। সেবার নামে গড়ে ওঠা এই চিকিৎসালয়গুলো যেন এখন একেকটি ‘কসাইখানায়’ পরিণত হয়েছে। ডাক্তার নামধারী কিছু পশু পাল রয়েছেন, অসাধু ব্যবসায়ী এবং ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন সাধারণ রোগীরা।
সেবার আড়ালে বাণিজ্য, টাকা দিলেও মিলছে না সুচিকিৎসা
অভিযোগ রয়েছে, সিলেটের বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে পা রাখলেই শুরু হয় টাকার খেলা। সাধারণ রোগ থেকে শুরু করে জটিল ব্যাধি—সবক্ষেত্রেই অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে রোগীদের পকেট কাটা হচ্ছে। চিকিৎসকদের ফি, বেড ভাড়া এবং ওষুধের চড়া মূল্যের কারণে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে।
সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ করার পরও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ও সঠিক চিকিৎসা। ভুল চিকিৎসা, ভুল রিপোর্ট এবং অবহেলার কারণে প্রতিনিয়ত প্রাণ হারাচ্ছেন রোগীরা। একেকজন চিকিৎসককে রোগীরা যেখানে ‘বিশ্বাসের আস্থা বা ‘জীবন রক্ষাকারী’ ভাবেন, সেখানে কিছু লোভী চিকিৎসকের আচরণ কসাইয়ের চেয়ে কম নয় বলে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেক ভুক্তভোগীরা, তাদের মধ্যে আমিও একজন।
ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজনের আর্তনাদ:
“ওসমানী হাসপাতালে সিট না পেয়ে স্বজনকে বাঁচাতে প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে গিয়েছিলাম। তারা শুধু একের পর এক টেস্ট আর টাকার স্লিপ ধরিয়ে দিয়েছে। দুই দিনে লাখ টাকা শেষ, কিন্তু রোগী সুস্থ হওয়া তো দূরের কথা, ভুল চিকিৎসায় অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। এরা ডাক্তার নাকি কসাই?”
ওসমানী হাসপাতাল বনাম প্রাইভেট ক্লিনিক সিন্ডিকেট
সরকারি ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে যখন ডাক্তার ও নার্সরা শত প্রতিকূলতার মাঝেও রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন, তখন একশ্রেণীর দালাল চক্র সরকারি হাসপাতালের রোগীদের ফুসলিয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যাচ্ছে। আর ক্লিনিকে যাওয়ার পর রোগীকে আইসিইউ (ICU) বা লাইফ সাপোর্টের নামে আটকে রেখে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।।
সিলেটের সচেতন মহলের দাবি, প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগের সঠিক নজরদারি ও নিয়মিত অভিযানের অভাবে এই বেসরকারি ক্লিনিকগুলো দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। ক্লিনিক, দক্ষতাহীন নার্স এবং ভুয়া টেকনিশিয়ান দিয়ে চলছে পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ।
আমাদের দাবি ও প্রতিবাদ,,
চিকিৎসা কোনো ব্যবসা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার। ডাক্তার নামের যারা এই পবিত্র পেশাকে কলঙ্কিত করছেন এবং রোগীদের জিম্মি করে টাকা লুটছেন, তাদের বিরুদ্ধে এখনই কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
অবিলম্বে সিলেটের সকল বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে নিয়মিত অভিযান চালাতে হবে।
চিকিৎসায় অবহেলা এবং অতিরিক্ত ফি আদায়ের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলে সংশ্লিষ্ট ক্লিনিকের লাইসেন্স বাতিল এবং দায়ী চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
রোগী হয়রানি বন্ধে একটি সেন্ট্রাল মনিটরিং সেল গঠন করতে হবে।
সিলেটের সাধারণ মানুষ আর কোনো ‘মেডিকেল মাফিয়া’ বা ‘কসাইয়ের’ হাতে নিজেদের জীবন সঁপে দিতে চায় না। অনতিবিলম্বে এই নৈরাজ্য বন্ধ হোক!