নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের মধ্যে দেশের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে গ্যাস ও জ্বালানি সরবরাহ বাড়াতে বড় ধরনের সাফল্য ও পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (এসজিএফসিএল)। জাতীয় চাহিদা মেটাতে প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে ৯টি নতুন কূপ খনন এবং ৮টি পুরোনো কূপের ওয়ার্কওভার (সংস্কার) প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
উৎপাদন ও সরবরাহের বর্তমান চিত্র
সিলেট গ্যাস ফিল্ডস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে হরিপুর, কৈলাশটিলা, বিয়ানীবাজার ও রশিদপুর গ্যাসক্ষেত্রের মোট ৩৪টি কূপের মধ্যে ১৭টি থেকে নিয়মিত গ্যাস উৎপাদন চলছে। এই ১৭টি কূপ থেকে প্রতিদিন গড়ে ১৪২ থেকে ১৪৩ মিলিয়ন (১৪ কোটি ২০ লাখ) ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।
খনন ও সংস্কার কাজের অগ্রগতি
সিলেট গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. ফারুক হোসেন জানান, উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত নতুন প্রকল্পের আওতায়:
-
৫টি নতুন কূপের খনন কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
-
৪টি কূপের খনন ও ভূমি উন্নয়নের কাজ বর্তমানে চলমান।
-
৮টি কূপের ওয়ার্কওভার কাজের অর্ডার সম্পন্ন হয়েছে।
-
একটি তেল কূপ খননের জন্য ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে।
জ্বালানি তেল উৎপাদনে বড় অবদান
সিলেট গ্যাস ফিল্ড শুধু গ্যাস নয়, বরং কনডেনসেট থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনের মাধ্যমেও দেশের বড় চাহিদা পূরণ করছে। রশিদপুর রিফাইনারিতে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে প্রতিদিন উৎপাদিত হচ্ছে:
-
পেট্রোল: ৩,৩০০ – ৩,৫০০ ব্যারেল (দেশের মোট চাহিদার ৩৩-৩৫%)
-
অকটেন: ৬০০ – ৭০০ ব্যারেল (চাহিদার ৭-৮%)
-
কেরোসিন: ১০০ – ১৫০ ব্যারেল (চাহিদার ৭%)
-
ডিজেল: ১৫০ – ২৫০ ব্যারেল
বর্তমানে আন্তর্জাতিক কোম্পানি শেভরন ও তাল্লো এবং নিজস্ব উৎপাদন মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৪,৫০০ ব্যারেল কনডেনসেট বিভিন্ন রিফাইনারিতে বণ্টন করা হচ্ছে। উৎপাদিত এসব জ্বালানি বিপিসির আওতাধীন পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা কোম্পানির মাধ্যমে সারা দেশে সরবরাহ করা হয়।
স্বস্তিতে সাধারণ মানুষ
দেশের মোট পেট্রোলের এক-তৃতীয়াংশই জোগান দিচ্ছে এই গ্যাস ফিল্ড। নতুন ৯টি কূপ থেকে পুরোদমে গ্যাস উত্তোলন শুরু হলে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ আরও বাড়বে, যা শিল্প-কারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে চলমান সংকট নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সিলেটের এই প্রাকৃতিক সম্পদের যথাযথ ব্যবহার ও নতুন কূপ খননের খবরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। তারা মনে করছেন, আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান বাড়ালে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও সুসংহত হবে।