২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৯০০ বছরের ঐতিহ্য এখন অবহেলার প্রতীক: বিলুপ্তির পথে সিলেটের হিন্দুয়ানী দিঘী

admin
প্রকাশিত ২০ এপ্রিল, সোমবার, ২০২৬ ১০:০৫:৩৪
৯০০ বছরের ঐতিহ্য এখন অবহেলার প্রতীক: বিলুপ্তির পথে সিলেটের হিন্দুয়ানী দিঘী

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট সিলেট নগরীর সৈদানীবাগ এলাকার অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ৯০০ বছরের পুরনো ‘হিন্দুয়ানী দিঘী’ এখন অস্তিত্ব সংকটে। সংস্কার কাজের দীর্ঘসূত্রিতা, কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা এবং প্রভাবশালী মহলের দখলের পাঁয়তারায় দিঘীটি তার চিরচেনা জৌলুস হারাতে বসেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, উন্নয়নের নামে দিঘীটিকে ধীরে ধীরে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।

থমকে আছে উন্নয়ন, বাড়ছে ঝুঁকি

সরেজমিনে দেখা যায়, বেশ কিছুদিন আগে দিঘীর চারপাশে গার্ড ওয়াল নির্মাণ ও ওয়াক-ওয়ে সংস্কারের কাজ শুরু হলেও বর্তমানে তা পুরোপুরি বন্ধ। দিঘীর চারপাশ খুঁড়ে রাখায় পাড় ভাঙন তীব্র হয়েছে। সংস্কার কাজ মাঝপথে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এলাকাটি এখন শিশু ও বয়স্কদের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ওয়াক-ওয়ে হলে পরিবেশ সুন্দর হতো, মানুষ হাঁটতে পারতো। কিন্তু কাজ অর্ধেক করে ফেলে রাখায় না হচ্ছে উন্নয়ন, না থাকছে আগের অবস্থা। মনে হচ্ছে কর্তৃপক্ষের কোনো দায়বদ্ধতা নেই।”

উন্নয়নের আড়ালে দখলের পাঁয়তারা

ঐতিহ্যবাহী এই জলাশয়টি ঘিরে নতুন করে দেখা দিয়েছে দখল বিতর্ক। স্থানীয়দের দাবি, ওয়াক-ওয়ে নির্মাণের সুযোগ নিয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র কিছু অসাধু ব্যক্তির যোগসাজশে দিঘীটি ভরাটের চেষ্টা করছে। দিঘীর পাড় কেটে মাটি ফেলা এবং পানির অংশ সংকুচিত করার আলামতও স্পষ্ট। সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, এটি মূলত দিঘীর আয়তন কমিয়ে আশপাশের জমি দখলের একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা।

সিসিকের বক্তব্য: অক্টোবর-নভেম্বরে কাজ শুরুর আশা

এ বিষয়ে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আলী আকবর জানান, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে ঠিকাদার সংক্রান্ত জটিলতায় কাজ সাময়িক বন্ধ ছিল। তিনি বলেন, “বর্ষা শেষ হলেই অক্টোবর বা নভেম্বর থেকে আমরা পুনরায় কাজ শুরু করব। সৈদানীবাগ দিঘীটিকে ধোপা দিঘীর মতো দৃষ্টিনন্দন করে গড়ে তোলা হবে।”

অন্যদিকে, সিসিকের নির্বাহী প্রকৌশলী রাজি আহমেদ দিঘীর উত্তর অংশ অবৈধ দখলের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “আমি নিজে এক সপ্তাহ আগে পরিদর্শন করে দেখেছি, উত্তরের দিকে ঘর বানিয়ে দিঘী দখল করা হয়েছে। আমরা দ্রুত এই প্রকল্পটি পুনরায় চালু করব।”

ঐতিহ্যের সুরক্ষা চায় এলাকাবাসী

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরণের প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্বসম্পন্ন জলাধার শুধু বিনোদন কেন্দ্র নয়, বরং শহরের পরিবেশ রক্ষা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রকল্প মাঝপথে বন্ধ রাখলে কাঠামোগত ক্ষতির পাশাপাশি সংস্কার ব্যয়ও কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

সৈদানীবাগবাসীর দাবি—আর কোনো কালক্ষেপণ নয়, দ্রুততম সময়ে সংস্কার কাজ শেষ করে ৯০০ বছরের এই ঐতিহ্যকে রক্ষা করা হোক।